BangaliNews24.com

অটোরিকশা -ইজিবাইকের অনুমোদন দিতে চায় সরকার, আপত্তি শ্রমিক সংগঠনের

অটোরিকশা -ইজিবাইকের অনুমোদন দিতে চায় সরকার, আপত্তি শ্রমিক সংগঠনের
জুলাই ০১
০০:৪৮ ২০১৮

 

বাঙালিনিউজ২৪ ডেস্ক : অনুমোদনহীন ইলেকট্রিক ইজিবাইক ও ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমোদন দিতে চায় সরকার। তবে এ নিয়ে জোর আপত্তি রয়েছে শ্রমিক সংগঠনগুলোর। তারা বলছে, অবৈধ এ বাহনটির অনুমোদন দিলে সড়কে দুর্ঘটনা বাড়ার পাশাপাশি এ সেক্টরে অরাজকতা বাড়বে। বাড়বে যানজটও। বৃহস্পতিবার (২৮ জুন) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়েছে। বৈঠকে উপস্থিত একাধিক সূত্র বিষয়টি বাঙালিনিউজ২৪কে নিশ্চিত করেছে।
বৈঠকে উপস্থিত জাতীয় রিকশা-ভ্যান-শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. ইনসুল আলী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বৈঠকে ইলেকট্রিক ইজিবাকই ও ব্যাটারিচালিত রিকশার পক্ষে-বিপক্ষে অনেক আলোচনা হয়েছে। কিন্তু চূড়ান্ত কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি। আমরা শ্রমিক ও মালিক প্রতিনিধিরা ইজিবাইকের বিপক্ষে মত দিয়েছি। বলেছি, এই বাহনগুলো সড়কে দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ। চলাচলে এর কোনও নিয়ন্ত্রণ নেই। যখন-তখন যে কেউ চাইলে বাহনগুলো রাস্তায় নামিয়ে দিচ্ছে। এর অনুমোদন না দিয়ে বরং কীভাবে বন্ধ করা যায় সে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।’
তিনি বলেন, ‘মহানগরীতে ৭৯ হাজার বৈধ রিকশা রয়েছে। অবৈধ রিকশা রয়েছে আরও অন্তত ১০ লাখ। এরমধ্যে ৫০ হাজারের বেশি ইজিবাইক ও ব্যাটারিচালিত রিকশা রয়েছে। এই রিকশাগুলো যদি অনুমোদন দেওয়া হয় তাহলে বৈধ লাইসেন্সধারী রিকশাগুলোতেও ব্যাটারি স্থাপনের অনুমোদন দিতে হবে। না হলে বিশৃঙ্খলা দেখা দেবে।’
বৈঠকে উপস্থিত অটোরিকশা শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মো. হানিফ খোকন বাঙালিনিউজ২৪কে বলেন, ‘বৈঠকে এই বাহনগুলোর বিষয়ে আমাদের অভিমত জানতে চাওয়া হয়। আমি জানিয়েছি, এর অনুমোদন দেওয়া উচিত হবে না। কারণ, বর্তমানে সারাদেশে ১০ লাখ ইজিবাইক ও ব্যাটারিচালিত রিকশা রয়েছে। এসব পরিবহনে প্রায় ৪০ লাখ ব্যাটারি রয়েছে। বছরের মাথায় ব্যাটারিগুলো ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়ে। তখন এগুলো ধ্বংস করার প্রয়োজন হয়। কিন্তু এই ব্যাটারিগুলো পরিবেশবান্ধব নয়। ফলে এ কারণে পরিবেশের দূষণ ঘটবে।’
তিনি বলেন, ‘রাস্তার চলাচলে এই বাহনগুলো ঘণ্টায় ৩০-৩৫ কিলোমিটার গতিতে চলে। ব্রেক করলেও অনেক দূর গিয়ে থামে। যে কারণে দুর্ঘটনা ঘটে। তাছাড়া সড়কের বিশাল একটি অংশ দখল করে এই পরিবহনগুলো রাখা হয়। ফলে এর অনুমোদন দেওয়া হলে মহানগরীতে যানজট আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করবে। বিদ্যুতেরও ভয়াবহ অপচয় হবে।’
তবে বৈঠকে উপস্থিত একাধিক সূত্র জানিয়েছে, বৈঠকের সভাপতি প্রধানমন্ত্রীর বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিষয়ক উপদেষ্টা ড. তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী এই পরিবহনগুলোর বৈধতা দিতে ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেছেন। তবে বিআরটিএ সচিব জানিয়েছেন, এই মুহূর্তে এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত হবে না। কারণ, মটরযান অধ্যাদেশ ১৯৮৩ মোতাবেক এই পরিবহনের অনুমোদন দেওয়ার কোনও সুযোগ নেই। এ নিয়ে আগে অনুষ্ঠিত বৈঠকগুলোতেও আমরা এই মতামত দিয়েছি। এ জন্য আইনের পরিবর্তন করতে হবে। তাছাড়া অনুমোদন দিলেও কে দেবে? সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশন নাকি বিআরটিএ? অনুমোদন দেওয়া হলেও এর আকার-আকৃতি বা নকশা কেমন হবে? বিষয়টি আরও বিস্তর পর্যালোচনা করা উচিত। পরবর্তী বৈঠকগুলোতে আলোচনা করা যেতে পারে। পরে কোনও সিদ্ধান্ত ছাড়াই বৈঠক শেষ হয়।
বৈঠকে উপস্থিত বাংলাদেশ রিকশা মালিক লীগের সভাপতি আর এ জামানও একই অভিমত জানান বলে জানা গেছে।
জানতে চাইলে বিআরটিএ সচিব শওকত আলী বাঙালিনিউজ২৪কে বলেন, ‘ইলেকট্রিক ইজিবাইক ও ব্যাটারিচালিত রিকশা নিয়ে আন্তঃমন্ত্রণালয়ের বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। তবে কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি। বৈঠকে আলোচনা হয়েছে, অবৈধ এই বাহনগুলোকে কীভাবে আইনের আওতায় আনা যায়। তাছাড়া আমরা বিআরটিএ’র পক্ষ থেকে এ নিয়ে আইন-কানুনের ব্যাখ্যা দিয়েছি।’
প্রধানমন্ত্রীর বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিষয়ক উপদেষ্টা ড. তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ে সচিব, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব আবদুল্লাহ আল মোহসীন চৌধুরী, বিআরটিএ সচিব শওকত আলী, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের একজন অতিরিক্ত সচিব উপস্থিত ছিলেন। পাশাপাশি ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি), ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি), নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন, গাজীপুর সিটি করপোরেশন এবং সংশ্লিষ্ট শ্রমিক ও মালিক সমিতির প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

অন্যান্য খবর

BangaliNews24.com