BangaliNews24.com

কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট আবিষ্কার করেছে বছরে তিনবার ফল দেবে এমন আম গাছ

কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট আবিষ্কার করেছে বছরে তিনবার ফল দেবে এমন আম গাছ
জুলাই ০১
১১:৪৪ ২০১৮

বাঙালিনিউজ২৪ ডেস্ক : কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট নামের সরকারি এ সংস্থাটি প্রতিনিয়ত করে যাচ্ছে নিরলস গবেষণা। একঝাঁক একনিষ্ট বিজ্ঞানি প্রতিবছরই নিত্যনতুন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছেন কিভাবে উন্নয়ন করা যায় আমের। কত স্বাদ, রঙ আর পুষ্টিদায়ী জাত উদ্ভাবন করা যায়।কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের পাহাড়তলী উদ্যানতত্ব গবেষণা কেন্দ্র এ জাতটির আবিষ্কার করেছে। যার নাম দেওয়া হয়েছে বারি-১১। একে বলা হচ্ছে বারমাসি জাতে আম।

এই গাছে একসঙ্গে পুরোটা জুড়ে মুকুল আসে না। তাই একটি মুকুলের আম যখন পাকার উপযোগী তখন আরেকটিতে আমের আকার মাত্র মারবেলের মতো।
সংস্থাটি দীর্ঘকাল ধরে গবেষণা করে এমন একটি জাত আবিষ্কার করেছে যা বছরে একবার নয়, তিন-তিনবার ফল দেয়। ফলে সারাবছই বাজারে পাওয়া যাবে আম। আর এমন দিন হয়তো খুব বেশি দূরে নয়, যখন দেশের আনাচে কানাচে জড়িয়ে ছিটিয়ে পড়বে এ জাতটি।

স্থানীয়ভাবে সংগ্রহের পর নির্বাচন পদ্ধতির মাধ্যমে ২০১৫ সালে এ জাতটি মুক্তায়ন করা হয়েছে। অর্থাৎ এটি সম্পূর্ণ দেশীয় আম। কৃত্রিম হাইব্রিড নয়। এটি প্রাকৃতিকভাবে সংকরায়ণে সৃষ্ট।

একটি গাছের আমের আঁটি ছড়িয়ে ছিটিয়ে রেখে যে গাছ হয়েছে তার ফল দেখে বেছে বেছে একটি সেম্পলকে নেওয়া হয়েছে। যেটি কিনা বছরে তিনবার ফল দেয়।
আর এ জাতের সৃষ্টি হয়েছে মৌমাছির মাধ্যমে। মধু সংগ্রহের জন্য যখন মৌমাছি কোনো একটি জাতের আমের মুকুলে বসে, তার আগে হয়তো অন্য কোনো জাতের মুকুল থেকেই সে ওঠে আসে। আর এভাবেই পরাগায়নের ফলে এই ধরনের সংকরায়ন ঘটেছে। এ জাতটির এভাবেই সৃষ্টি। যা পাহাড়তলী উদ্যানতত্ব গবেষণা কেন্দ্র দীর্ঘদিন ধরে পর্যবেক্ষণ করছে।
বারি-১১ বা বারমাসি এ আমের জাতটি এখন দেশের সব উদ্যানতত্ব গবেষণা কেন্দ্রেই চাষ হচ্ছে। বিষয়টি জানা গেল রাজশাহীর চাঁপাইনবাবগঞ্জ আঞ্চলিক উদ্যানতত্ব গবেষণা কেন্দ্রে গিয়ে। এ কেন্দ্রের মূখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. হামিম রেজাই বিষয়টি জানালেন বেশ উচ্ছ্বাসের সঙ্গে। তিনি বাঙালিনিউজ২৪কে বলেন, এই আমের জাতটি দেশের আনাচে-কানাচে জড়িয়ে দেওয়াই তাদের লক্ষ্য। এতে সারাবছরই মানুষ আমের স্বাদ নিতে পারবেন।

উচ্চফলনশীল এ প্রজাতি বছরে তিনবার ফল দেবে। ডিসেম্বর-জানুয়ারি, এপ্রিল ও জুলাই-আগস্টে এ আম পাওয়া যাবে। এটি খুবই খেতে সুস্বাদু। তবে আঁশ আছে। এটি আকারে লম্বাটে, অনেকটা অংকের ৫ এর মতো দেখতে। প্রতিটি আমের গড় ওজন হয় ৩১৭ গ্রাম।

কাঁচা আমের ত্বক হালকা সবুজ। আর পাকলে ত্বক হয় হলুদাভ সুবজ। লম্বায় ১১ দশমিক ৩ সেন্টিমিটার, প্রস্থ ৭ দশমিক ৯ সেন্টিমিটার এবং পুরু ৭ সেন্টিমিটার। আঁটির ওজন ২৫ গ্রাম অর্থাৎ পাতলা আঁটির আমটির ৭৯ ভাগ খাওয়া যায়। মিষ্টতার পরিমাণ ১৮ দশমিক ৫ শতাংশ টিএসএস।

ড. হামিম রেজা বাঙালিনিউজ২৪কে বলেন,- আমরা শিগগিরই এই আমের জাতটি ব্যাপকভাবে সারা দেশে ছড়িয়ে দিতে চাই।এটি সারা দেশে ছড়িয়ে দিতে পারলেই আমাদের গবেষনা সার্থক হবে ।

অন্যান্য খবর

BangaliNews24.com