BangaliNews24.com

মিয়ানমারের বিচার করতে পারবে কি আন্তর্জাতিক আদালত ?

মিয়ানমারের বিচার করতে পারবে কি আন্তর্জাতিক আদালত ?
জুলাই ০১
১২:১৬ ২০১৮

 

বাঙালিনিউজ২৪ ডেস্ক :
বর্তমানে ‘শরণার্থী’ একটি আন্তর্জাতিক সমস্যা। কিন্তু তারপরও শরণার্থী গ্রহণকারী রাষ্ট্র যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণে ব্যর্থ হলে এ জাতীয় সমস্যা রাষ্ট্রীয় পরিসরেই ঘুরপাক খায়। শরণার্থী গ্রহণকারী রাষ্ট্রকে তাই কূটনৈতিক প্রয়াস চালিয়ে যেতে হয়। সেই বিবেচনায় এখন পর্যন্ত ঢাকার সোজাসাপ্টা অবস্থান যে, মিয়ানমার এ সমস্যার সৃষ্টি করেছে এবং তাদেরকেই এর সমাধান করতে হবে।

আমরাও মনে করি, শরণার্থীদের নিরাপদ ও স্থায়ী প্রত্যাবাসনই এ সমস্যার একমাত্র গ্রহণযোগ্য আইনানুগ ও আন্তর্জাতিক সমাধান। মিয়ানমারকে প্রত্যাবাসনে বাধ্য করতে আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলাদেশকে জোর কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যেতেই হবে। এখানে কোনো ধরনের অবহেলা বাংলাদেশকে স্থায়ী সংকটের মুখোমুখি করবে।

আমাদের জন্য প্রত্যাবাসনই একমাত্র আকাঙ্ক্ষিত সমাধান হলেও আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকারের দৃষ্টিতে প্রত্যাবাসনের পাশাপাশি মিয়ানমার মানবতার বিরুদ্ধে যে অপরাধ করেছে তার বিচার হওয়াও জরুরি। কেবল দেওয়ানি কার্যক্রমই যথেষ্ট নয়, ফৌজদারি পদক্ষেপও জরুরি। মিয়ানমার শুধু একটি জাতিগোষ্ঠীকে নিজ দেশ থেকে বিতাড়ণ করে শরণার্থী বানিয়েই ক্ষ্যান্ত হয়নি, যে প্রক্রিয়ায় তারা এ কাজটি করেছে তা মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ। সে কারণে এ অপরাধের বিচার হওয়া মানবতার দাবি।

মিয়ানমার রোহিঙ্গাদের হত্যা, ধর্ষণ, গণধর্ষণ, ঘড়-বাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট করে তাদের ভিটেমাটি ছাড়া করেছে। তাদের কুপরিকল্পনার অংশ হিসেবেই এ নিধনযজ্ঞ চালিয়েছে মিয়ানমার।

এ জাতীয় অপরাধের বিচার করার জন্য আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (আইসিজে), আন্তর্জাতিক ফৌজদারি আদালতসহ (আইসিসি) রয়েছে বিভিন্ন আঞ্চলিক আদালত। এসব আদালতের এখতিয়ারগত ভিন্নতা রয়েছে।

মিয়ানমারের অপরাধ বিচার করার এখতিয়ার আইসিসির আছে কি-না তা জানতে চেয়ে উক্ত আদালতেরই চিফ প্রসিকিউটর আদালতের কাছে গত ৯ এপ্রিল একটি আবেদন করেছেন। আবেদনটি

এখনও আদালতের বিবেচনাধীন। আমরা এ বিষয়ে আদালতের ইতিবাচক সিদ্ধান্ত প্রত্যাশা করছি।
যদিও মিয়ানমার এরই মধ্যে দাবি করেছে যে তাদের বিচার করার এখতিয়ার আইসিসির নেই। কারণ মিয়ানমার আইসিসির সদস্য নয়। আইসিসি সনদে সইও করেনি তারা কিংবা এর এখতিয়ারকে ইতিপূর্বে স্বীকারও করে নেয়নি। তাছাড়া, অভিযুক্তরা মিয়ানমারের সৈন্য এবং ‘কথিত’ অপরাধ সংঘঠিত হয়েছে মিয়ানমার ভূখণ্ডেরই রাখাইন রাজ্যে। কিন্তু এখন ঢাকাসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অপেক্ষা, ‘ দেখা যাক, আইসিসি কী করে।’

এটা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় স্পষ্ট করে না বলেও তাদের কথায় প্রকাশ পায় যে, মিয়ানমার যা করেছে আন্তর্জাতিক আইনের বিচারে তা আন্তর্জাতিক অপরাধ তথা মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ। আন্তর্জাতিক অপরাধের বিচার করার এখতিয়ার আন্তর্জাতিক আদালতের রয়েছে। আইসিসি একটি আন্তর্জাতিক আদালত। সে হিসেবে আইসিসির এ অপরাধের বিচার করার এখতিয়ার থাকারই কথা। এক্ষেত্রে রাষ্ট্রীয় বা ভূখণ্ডগত এখতিয়ার কোনো বাধা হওয়ার কথা নয়। যদিও আইসিসি রাষ্ট্রীয় এখতিয়ারের বিষয়টি পুরোপুরি অস্বীকার করেনি।

অন্যান্য খবর

BangaliNews24.com