BangaliNews24.com

পরকীয়া অপরাধ নয়; ভারতের হাইকোর্টের রায়

পরকীয়া অপরাধ নয়; ভারতের হাইকোর্টের রায়
অক্টোবর ০১
১৯:৩০ ২০১৮

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: পরকীয়া অপরাধ নয়। তবে বিবাহ বিচ্ছেদের কারণ হতে পারে। ভারতীয় দণ্ডবিধির পরকীয়া সংক্রান্ত ৪৯৭ ধারাকে অসাংবিধানিক বলে রায় দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্ট। প্রধান বিচারপতি দীপক মিশ্রর নেতৃত্বে পাঁচ বিচারপতির সাংবিধানিক বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ, এই আইন স্বেচ্ছাচারিতার নামান্তর। মহিলাদের স্বাতন্ত্র খর্ব করে। স্বামী কখনই স্ত্রীর প্রভূ বা মালিক হতে পারেন না। ব্রিটিশদের তৈরি করা ১৮৬০ সালের আইনকে চ্যালেঞ্জ করে একটি মামলার প্রেক্ষিতেই বৃহস্পতিবার শীর্ষ আদালতের এই রায়। রায়ের পর আবেদনকারীর আইনজীবী রাজ কালিশ্বরম বলেন, ‘‘এই রায় ঐতিহাসিক। আমি খুশি।’’

১৮৬০ সালের ওই আইনে বলা হয়েছে, কোনও ব্যক্তি কোনও নারীর সঙ্গে যৌন সম্পর্ক করলে এবং ওই নারীর স্বামীর অনুমতি না থাকলে পাঁচ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং জরিমানা বা উভয়ই হতে পারে। এই আইনকে চ্যালেঞ্জ করেই একাধিক মামলা দায়ের করা হয়। মামলাকারীদের দাবি ছিল, ঔপনিবেশিক শাসনামলের ওই আইনে নারীদের সম্পত্তি হিসাবে গণ্য করে এই আইন তৈরি হয়েছিল। কিন্তু বর্তমান সমাজ ব্যবস্থার প্রেক্ষিতে এই আইন বাতিল করা উচিত। আরও দাবি করা হয়েছে, একই অপরাধে পুরুষকে দোষী করলে নারীদেরও দোষী করতে হবে। এই মামলাতেই রায় দিয়ে সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে পরকীয়া আর অপরাধ বলে গণ্য হবে না।

শীর্ষ আদালত বলছে, নিছক পরকীয়া কখনও অপরাধ হতে পারে না। পরকীয়া সম্পর্কের কারণে জীবনসঙ্গী যদি আত্মহত্যা করেন এবং আদালতে যদি তার প্রমাণ দাখিল করা যায় তবেই এটি অপরাধে প্ররোচণা হিসেবে গণ্য হবে।

৪৯৭ ধারাকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করে রায়দানের সময় প্রধান বিচারপতি মন্তব্য করেন, ‘‘এই আইন জোর করে চাপিয়ে দেওয়া এবং স্বেচ্ছাচারিতার সমান। এখন এটা বলার সময় হয়েছে যে, কোনও মহিলার স্বামী তাঁর প্রভূ বা মালিক হতে পারেন না।’’

রায়ে আরও বলা হয়েছে, কারও যৌনতার অধিকারকে আইনি পরিসরে বেঁধে দেওয়া ঠিক নয়। কাউকে সমাজের ইচ্ছানুযায়ী ভাবতে এবং কাজ করতে বাধ্য করার অর্থ তাঁর স্বাধীনতা খর্ব করা। এটা মহিলাদের অধিকার রক্ষা এবং সমানাধিকারের পরিপন্থী।

অন্যান্য খবর

BangaliNews24.com