BangaliNews24.com

‘বাস চাপায় হত্যাকরা হয়েছে মাসুদ রানাকে এটা কোনো ভাবেই দুর্ঘটনা নয়, এটা হত্যাকাণ্ড, -বিইউবিটি’র (ভিসি) আবু সালেহ

‘বাস চাপায় হত্যাকরা হয়েছে মাসুদ রানাকে এটা কোনো ভাবেই দুর্ঘটনা নয়, এটা হত্যাকাণ্ড, -বিইউবিটি’র (ভিসি) আবু সালেহ
জুলাই ০৩
২৩:৫৯ ২০১৮

 

বাঙালিনিউজ ডেস্ক : বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যান্ড টেকনোলজির (বিইউবিটি) বিবিএ’র ৩৫তম ব্যাচের শিক্ষার্থী সৈয়দ মো.মাসুদ রানা (২৩)। সোমবার সকাল পৌনে ৯টার দিকে রাজধানীর মিরপুরের চিড়িয়াখানা সড়কের ঈদগাহ মাঠ মোড়ে বাসচাপায় নিহত হন মাসুদ রানা (২৩)। প্রতিদিনের মতো রিকশাযোগে বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়ার পথে দিশারী পরিবহনের একটি বাস মাসুদ রানাকে ধাক্কা দিলে তিনি রিকশা থেকে পড়ে যান। এরপর বাসটি না থামিয়ে তার গায়ের ওপর দিয়ে চালিয়ে যায় চালক। এতে তার কোমরের নিচের অংশ থেঁতলে যায়। রিকশাচালকও গুরুতর আহত হন। সড়কেই কিছুক্ষণ পড়ে থাকেন মাসুদ রানা ও রিকশাচালক। পরে একটি ভাঙারির দোকানের তিন তরুণ এগিয়ে আসেন। তারা একটি সিএনজিতে তুলে পঙ্গু হাসপাতালে নিয়ে যায় দুজনকে। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা মাসুদকে মৃত ঘোষণা করেন বলে জানিয়েছেন বিইউবিটি’র ভাইস চ্যান্সেলর (ভিসি) প্রফেসর মো. আবু সালেহ।

আবু সালেহ বলেন, ‘মাসুদ বিবিএ ৩৫তম ব্যাচের শেষ সেমিস্টারের শিক্ষার্থী ছিল। সকাল সাড়ে ৯টায় তার ক্লাস ছিল। সে ক্লাস করার জন্য রিকশাযোগে বাসা থেকে আসছিল। ওই সময় দিশারী পরিবহনের একটি বাস তাকে বহনকারী রিকশাটিকে প্রথমে ধাক্কা দেয়। সে রিকশা থেকে পড়ে যায়। এরপর বাসটি তার ওপর দিয়ে চালিয়ে যায়। বাসচালক ইচ্ছা করলে ধাক্কা লাগার পরই ব্রেক করতে পারতো। কিন্তু সে তা করেনি। সে জেনেশুনেই মাসুদের গায়ের ওপর দিয়ে বাসটি চালিয়ে যায়। এটা কোনোভাবেই দুর্ঘটনা না, এটা হত্যাকাণ্ড।’

ভিসি বলেন, ‘বাসটি চাপা দেয়ার পর ছেলেটি রাস্তায় পড়ে ছিল। কিন্তু কেউ তাকে উদ্ধার করতে এগিয়ে আসেনি। একটি ভাঙারি দোকানের তিন তরুণ এসে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় তাদের তুলে নেয়। আমি খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পঙ্গু হাসপাতালে যাই। সেখানে গিয়ে দেখতে পাই মাসুদ আর বেঁচে নাই। তার পরিবারকেও খবর দেয়া হয়। তারাও হাসপাতালে আসেন।’ রাজধানীসহ সারাদেশে প্রায়ই এ ধরনের ঘটনা ঘটছে। কিন্তু কোনোটিরই বিচার হচ্ছে না বলে সড়কে এই হত্যাকাণ্ড থামানো যাচ্ছে না বলে মন্তব্য করেন ভিসি মো. আবু সালেহ। তিনি বলেন, ‘একটি ঘটনার যদি বিচার হতো, তাহলে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি হতো না। এই পর্যন্ত আমরা একটি ঘটনারও বিচার হতে দেখিনি।’

নিহত মাসুদ রানার বাবার নাম সৈয়দ মো. জাহাঙ্গীর। মিরপুরের দক্ষিণ বিসিলের ১১ নম্বর সড়কের ৬২ নম্বর বাড়ি তাদের। দুই ভাই ও এক বোনের মধ্যে মাসুদ ছিলেন সবার বড়। কমার্স কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাস করে বিইউবিটিতে ভর্তি হন তিনি।

অন্যান্য খবর

BangaliNews24.com