BangaliNews24.com

দেশে এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহারকারী গ্রাহকদের সচেতন করার উদ্যোগ নেই ব্যবসায়ীদের

দেশে এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহারকারী গ্রাহকদের সচেতন করার উদ্যোগ নেই ব্যবসায়ীদের
অগাস্ট ০৩
২১:৩৬ ২০১৮

বিশেষ প্রতিনিধি : ময়মনসিংহের ভালুকায় চেয়ারম্যান বাড়ি এলাকায় একটি রান্নাঘরে গত ২৫ মার্চ গ্যাস সিলিন্ডারে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান খুলনা প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট)-এর ছাত্র তৌহিদুল ইসলাম। আহত হন আরও তিন জন। এই ঘটনার তদন্ত করে বিস্ফোরক পরিদফতর বলেছে, ‘রাতে সিলিন্ডার থেকে গ্যাস বেরিয়ে যায়। বন্ধ দরজা জানালার কারণে গ্যাস ঘরের মধ্যে ঘনীভূত আকারে ছিল। তৌহিদুল ইসলাম খাবার ঘরের টেবিলে বসে ল্যাপটপ চালাচ্ছিলেন। ল্যাপটপের সংযোগ প্লাগে স্পার্ক বা অন্যকোনও স্পার্ক থেকে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।’ অথচ একটুখানি সচেতন হলেই এ ধরনের দুর্ঘটনা রোধ করা যায়। কিন্তু গ্রাহকদের সচেতন করার বিষয়ে কোনও উদ্যোগ নেই ব্যবসায়ীদের।
বিস্ফোরক পরিদফতরের তদন্ত প্রতিবেদন ঘেটে দেখা গেছে, বেশিরভাগ দুর্ঘটনা ঘটছে সচেতনতার অভাবে। গ্রাহকরা এলপিজি’র সিলিন্ডারটি এমন জায়গায় রাখেন যে, লিক হয়ে গ্যাস বের হলেও তা ঘরের বাইরে যেতে পারছে না। রান্না ঘরের জানালা খোলা রাখা হয়না। আবার গ্যাস সিলিন্ডারের সঙ্গে ভাল্ব, পাইপ লাইন বা চুলা থেকে গ্যাস নির্গত হচ্ছে কীনা, ব্যবহারকারীরা তাও সব সময় খেয়াল করেন না। বেশির ভাগ তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়— গ্যাসে ঘর ভরে থাকছে। যখনই দেশলাইয়ের কাঠি জ্বালানো হয়, তখনই পেট্রোলিয়াম গ্যাসে আগুন ধরে পুড়ে যাচ্ছে জীবন। তবে গ্যাসের আগুনে পুড়ে মারা যাওয়া মানুষের কোনও পরিসংখ্যান নেই জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের কাছে। যদিও দিন দিন এধরনের দুর্ঘটনার সংখ্যা বেড়েই চলেছে।
ক্রমান্বয়ে দেশে এলপিজি’র ব্যবহার বাড়ছে। সরকার এলপিজি ব্যবহারকারী সাধারণ মানুষকে সচেতন করার জন্য ব্যবসায়ীদের নানা উদ্যোগ নিতে বললেও বিষয়টি গুরুত্ব দিচ্ছে না তারা। তবে বিস্ফোরক পরিদফতর, মহিলা এবং শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় মিলে গ্রাহকদের সচেতন করার একটি উদ্যোগ বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

প্রধান বিস্ফোরক পরিদর্শক মো. সামসুল আলম বলেন, ‘আমরা বিতরণ কোম্পানিগুলোকে বলেছি, তারা যেন নিরাপত্তার স্বার্থে গ্রাহকদের সচেতন করেন। গ্রাহকদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্য ব্যবসায়ীদের অনুরোধও করা হয়েছে। কোনও কোনও কোম্পানিকে বিজনেস প্রমোশনের জন্য নানা ক্যাম্পেইন করতে দেখা গেলেও গ্রাহকদের নিরাপত্তার বিষয়ে কাজ করতে তেমন দেখা যায় না।’ তিনি বলেন, ‘আমাদের ফ্ল্যাট বাড়িগুলোর প্রতিটি রান্নাঘরের যে অবস্থা, তাতে বিস্ফোরণ ঘটা অস্বাভাবিক না। রান্নাঘরগুলোতে যেমন বাতাস পৌঁছানো কঠিন, তেমনই বাতাস বের হওয়ার জন্য যথেষ্ট বড় জানালা নেই।’ গ্রাহকরা নিজেদের স্বার্থেই এসব দিকে নজর দেবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, দেশের এলপিজি বিপণন কোম্পানিগুলোকে ডেকে সম্প্রতি বৈঠক করেছে জ্বালানি মন্ত্রণালয়। ওই বৈঠকে বিদ্যুৎ জ্বালানি এবং খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেন, ‘মানুষ রান্নার কাজে বিপুল পরিমাণ এলপিজি ব্যবহার করছে। দুঃখজনক হলেও সত্য সাম্প্রতিক সময়ে কিছু দুর্ঘটনা ঘটেছে। কোনও অবস্থাতেই একটি দুর্ঘটনাও কাম্য নয়।’ যাতে কোথাও দুর্ঘটনা না ঘটে, সে জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে নির্দেশ দেন প্রতিমন্ত্রী।

সরকারের নীতিমালার কারণে এলপিজি’র ব্যবহার গত নয় বছরে ৮০০ গুণ বেড়েছে। প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেন, ‘ব্যবহার বাড়লেও নিরাপত্তার সঠিক সূচক অনুসরণ করা হচ্ছে না।’ এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন তিনি। তবে এরপর একই বিষয়ে একটি ফলোআপ বৈঠক করার কথা ছিল, যা আর করেনি জ্বালানি বিভাগ। অজানা কারণে বিতরণ কোম্পানিগুলোকে চিঠি দিয়ে ডেকে আবার বৈঠকটি বাতিল করে দেওয়া হয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা কথা বলতে অপরাগতা প্রকাশ করেন,তার নাম উল্লেখ না করার অনুরোধও জানান তিনি ।

সম্প্রতি এসব বিষয় নিয়ে মন্ত্রণালয়ে একটি প্রতিবেদন দিয়েছে জ্বালানি এবং খনিজ সম্পদ বিভাগ। এই বিভাগের উপসচিব আকরামুজ্জামান ওই প্রতিবেদনটি তৈরি করেন। প্রতিবেদনে এলপিজি ব্যবহারকারীদের সতর্ক হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সিলিন্ডারের গায়ে খোদাই করে লেখা মেয়াদ দেখে কেনার পাশাপাশি নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের কথাও বলা হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, দুর্ঘটনার কারণ এবং প্রতিকারের উপায়ের ওপরে প্রচারণা চালাতে হবে। ব্যবহারকারীদের সচেতন করে তুলতে হবে। এলপিজি বোতল নির্দিষ্ট সময় পরপর পরীক্ষা করতে হবে। এছাড়া, আধুনিক সেফটি রেগুলেটর ব্যবহার করতে হবে। প্রতি তিন বছর পর রেগুলেটর এবং প্রতিবছর একবার হোস পাইপ পরিবর্তন করতে হবে।

অন্যান্য খবর

BangaliNews24.com