BangaliNews24.com

লক্ষ্য অর্জনের পরেও শিক্ষার্থীরা রাস্তায় থাকলে লক্ষ্যভ্রষ্ট হবে: নাসিম

লক্ষ্য অর্জনের পরেও শিক্ষার্থীরা রাস্তায় থাকলে লক্ষ্যভ্রষ্ট হবে: নাসিম
অগাস্ট ০৩
২১:২৩ ২০১৮

বিশেষ প্রতিনিধি : ১৪ দলের মুখপাত্র ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমনিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনের লক্ষ্য অর্জনের পরেও শিক্ষার্থীরা রাস্তায় থাকলে লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে যাবে বলে মনে করেন ১৪ দলের মুখপাত্র ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম।
শুক্রবার (৩ আগস্ট) বিকালে ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
সড়ক দুর্ঘটনায় শিক্ষার্থী নিহতের ঘটনায় শোক প্রকাশ করে মোহাম্মদ নাসিম বলেন, ‘এটি সড়ক দুর্ঘটনা নয়, এটি একটি নৃশংস হত্যাকাণ্ড। ১৪ দল মনে করে—এই ধরনের হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার করে খুনিদের শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।’
আন্দোলনের প্রতি ১৪ দল সমর্থন জানিয়েছে উল্লেখ করে নাসিম বলেন, ‘এই সড়ক দুর্ঘটনার বিরুদ্ধে ও হত্যার বিচারের দাবিতে সাধারণ কিশোর ছাত্রছাত্রীরা রাস্তায় নেমেছে। স্বতঃস্ফূর্ত এই আন্দোলনের প্রতি আমরা সম্মান জানাই, শ্রদ্ধা জানাই। তাদের প্রতি আমাদের সম্পূর্ণ সহানুভূতি রয়েছে। কারণ, দীর্ঘদিনের এই সড়ক অব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে তারা যে প্রতিবাদ করেছে, তা অবশ্যই যুক্তিসঙ্গত। এই ঘটনার সঙ্গে যারাই জড়িত, আমি মনে করি এর বিচার হওয়া উচিত।’
মন্ত্রী বলেন, ‘যে লক্ষ্যে কিশোররা আন্দোলন করেছে, তা অর্জিত হয়েছে। লক্ষ্য অর্জিত হওয়ার পরে আর কোনোভাবেই রাস্তায় থাকার কোনও অর্থ হয় না। আমরা অনুরোধ করবো—আমাদের ছেলেমেয়েরা সবাই যেন এখন ঘরে ফিরে যায়, ক্লাসে ফিরে যায়। এ ব্যাপারে অভিভাবকদেরও অনুরোধ করবো। কারণ, লক্ষ্য অর্জনের পরেও যদি তারা বাইরে থাকে, তাহলে লক্ষ্য অর্জন শুধু নয়, এই আন্দোলনের লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে যাবে। এটা মনে রাখতে হবে— যখন লক্ষ্য অর্জিত হয়ে যায়, তখন ক্ষান্ত দিতে হয়। না হলে লক্ষ্যভ্রষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা নয় দফা দাবি দিয়েছিল। দ্রুততম সময়ের মধ্যে নয় দফা দাবি মেনে নেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী যথাযথ কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন।’

পরিবহন আইন পাসের কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি, প্রধানমন্ত্রী অন্য যেকোনও সমস্যার মতো এই সমস্যাও দ্রুত সমাধান করবেন।’

১৪ দলের মুখপাত্র বলেন, ‘রোদে বৃষ্টিতে তারা যে প্রতিবাদ করেছে, অনেক ক্ষেত্রে আমাদেরকে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে কোথায় অব্যবস্থাপনা অাছে, কোথায় আমাদের দুর্বলতা আছে। এটি অত্যন্ত দুঃখের বিষয়, আমাদের অবশ্যই স্বীকার করতে হবে। আমাদের স্বীকার করতে লজ্জা নাই, দ্বিধা নাই। আমাদের সরকারের আমলে কিছু কিছু অব্যবস্থাপনা ছিল, আর এটা দীর্ঘদিনের।’

নাসিম বলেন, ‘যারা শ্রমিক ফেডারেশনে কাজ করে, তারা দলমত যা-ই হোক, একই উদ্দেশ্যে কাজ করে। এই শ্রমিক নেতাদের সরকারি বা বিরোধী দল বলতে কিছু নাই। তাদের কাছে মানুষ জিম্মি হয়ে গেছে। এই ব্যাপারটি নিয়ে অনেকবার আলোচনা হয়েছে।’

নৌমন্ত্রী পদত্যাগ করবেন কিনা জানতে চাইলে নাসিম বলেন, ‘নয় দফার মধ্যে একটি দাবি ছিল নৌমন্ত্রীর ক্ষমা চাইতে হবে। তিনি দুঃখ প্রকাশ করেছেন, ক্ষমা চেয়েছেন। এখন আমার কাছে মনে হয়—এটা রাজনৈতিক দাবি উঠেছে। আন্দোলনের উদ্দেশ্য এটা ছিল না। কারণ, পদত্যাগের মাধ্যমে এর সমাধান হবে না। আইন করে তা কঠোরভাবে প্রয়োগ করতে হবে।’

সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়ুয়ার সভাপতিত্বে সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের দফতর সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ, জাসদ একাংশের শরীফ নূরুল আম্বিয়া, ওয়ার্কার্স পার্টির আনিসুর রহমান মল্লিক, কামরুল আহসান খান, কমিউনিস্ট কেন্দ্রের ওয়াজেদুল ইসলাম, গণতন্ত্রী পার্টির শাহাদাত হোসেন, বাসদের রেজাউর রশিদ খান, গণআজাদী লীগের এস কে শিকদার, ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দিলীপ রায়, বিএমএ মহাসচিব মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন।

অন্যান্য খবর

BangaliNews24.com