BangaliNews24.com

১৮ কোটি টাকা হলেই ভাঙ্গন ঠেকবে টাঙ্গাইল চৌহালীতে, সিরাজগঞ্জের চৌহালীতে নতুন বাধে একদিকে স্বস্তি, ভাঙ্গনে আরেক দিকে বিপর্যয়

১৮ কোটি টাকা হলেই ভাঙ্গন ঠেকবে টাঙ্গাইল চৌহালীতে, সিরাজগঞ্জের চৌহালীতে নতুন বাধে একদিকে স্বস্তি, ভাঙ্গনে আরেক দিকে বিপর্যয়
জুন ০৫
০৮:২৪ ২০১৮

১৮ কোটি টাকা হলেই ভাঙ্গন ঠেকবে টাঙ্গাইল চৌহালীতে,
সিরাজগঞ্জের চৌহালীতে নতুন বাধে একদিকে স্বস্তি, ভাঙ্গনে আরেক দিকে বিপর্যয়

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধিঃ
যমুনা নদীর ভাঙ্গনের হাত থেকে সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলা সদরের বাকি এলাকা সহ আশপাশ রক্ষায় ১০৯ কোটি টাকা ব্যয়ে ৭ কিলোমিটার জুড়ে তীর সংরক্ষন বাধ নির্মানে মানুষের হাহাকার কাটিয়ে এখন স্বস্তি বিরাজ করছে। তবে নদীতে পানি বাড়ার সাথে-সাথে আরেক দিকে বাধের উত্তরপাশে টাঙ্গাইল ও চৌহালীর কয়েক গ্রাম জুড়ে দেখা দিয়েছে ভয়াবহ ভাঙ্গন। গত দু সপ্তাহের ব্যবধানে ২টি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় সহ বিলীন হয়েছে দেড় শতাধীক ঘরবাড়ি।

এছাড়া বিলীনের অপেক্ষায় আরো হাজারো ঘরবাড়ি, সহ¯্রাদিক একর আবাদী জমি সহ অন্যান্য স্থাপনা। তাই এখানে মানুষ হতাশায় নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছে। এছাড়া অতি ভাঙ্গনের কারনে সদ্য নির্মিত বাধটিও ক্ষতির আশংকা করছে পাউবো সহ স্থানীয়রা। এ অবস্থায় ভয়াবহ ভাঙ্গন ঠেকাতে পাউবোর প্রস্তাবিত ১৮ কোটি টাকার প্রকল্প দ্রæত টেন্ডারের দাবী স্থানীয়দের।

গত ১০ বছরে যমুনার পুর্বপাড় বোয়ালকান্দি থেকে দক্ষিনে পাথরাইল পর্যন্ত উপজেলা সদরের খাসকাউলিয়া হয়ে প্রায় ২০ কিলোমিটার জুড়ে অব্যাহত ভাঙ্গনে উপজেলা পরিষদ সহ ৪০ শতাংশ এলাকা নদীতে বিলীন হয়। এ ভাঙ্গন চৌহালীর ঘোরজান ইউনিয়নের পুর্ব অংশ গ্রাস করে টাঙ্গাইল সদর ও নাগরপুর উপজেলার কয়েকটি গ্রাম একের পর এক নিশ্চিন্থ করে দেয়। প্রায় অর্ধ লক্ষাধিক মানুষ হয়ে পড়ে বিপর্যস্ত। সরকারের উদ্যোগে চৌহালী উপজেলা সদরের বাকি এলাকা, টাঙ্গাইলের তীরবর্তী কয়েক কিলোমিটার সহ ৭ কিলোমিটার রক্ষায় এশিয় উন্নয়ন ব্যাংক ১০৯ কোটি টাকার বরাদ্ধ গ্রহন করে।

গত ২০১৫ সালের ২৪ নভেম্বর নদীর পুর্ব পাড়ের টাঙ্গাইল সদর উপজেলার সরাতৈল থেকে দক্ষিনে নাগরপুর উপজেলার পুকুরিয়া, শাহজানীর খগেনের ঘাট, সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলার ঘোরজানের চেকির মোড়, আজিমুদ্দি মোড়, খাসকাউলিয়া, জোতপাড়া পর্যন্ত ৭ কিলোমিটার তীর সংরক্ষন বাধের নির্মান কাজ গত ২০ ফেব্রæয়ারী শেষ হয়েছে। বর্তমানে নদীতে পানি বাড়লেও আগের মত কেউ নেই হতাশায়। নব নির্মিত বাধটি তাই বিপর্যস্ত মানুষের এখন আশার আলো।

বাধটি নদী পাড়ের কিছু মানুষকে স্বস্তিতে রাখলেও এর উত্তর পাশে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার কুকুরিয়া বারোবাড়িয়া, চালাপাকলা, চৌহালীর মিস্ত্রীগাঁতী, স্থলচর ও বোয়ালকান্তি জুড়ে প্রায় সাড়ে ৪ কিলোমিটার জুড়ে দেখা দিয়েছে ভয়াবহ ভাঙ্গন। গত ২ সপ্তাহের ব্যবধানে ২টি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় সহ দেড় শতাধীক ঘরবাড়ি বিলীন হওয়ায় সবার মাঝে দেখা দিয়েছে আতংক।এ দিকে এলাকাটি রক্ষায় পাওবো ১৮ কোটি টাকার একটি প্রকল্প প্রস্তাবনা মন্ত্রনালয়ে প্রেরন করলেও তার নেই কোন অগ্রগতি । এ অবস্থায় জরুরী পদক্ষেপ দাবী স্থানীয় অসহায় মানুষের।

বাধের উত্তর পাশ দিয়ে ভাঙ্গনের মাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ায় মুল বাধটিও এখন হুমকীর মুখে।

এদিকে প্রস্তাবিত প্রকল্পের বরাদ্ধের টাকার অপেক্ষায় পানি উন্নয়ন বোর্ড বলে জানালেন
শাহজাহান সিরাজ, নির্বাহী প্রকৌশলী, টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ড।

এমতাবস্থায় সিরাজগঞ্জের চৌহালীকে রক্ষায় দ্রæত পদক্ষেপ নেবে সরকার এ আশায় বুকবেধেছে নদী পাড়ের মানুষ ।

অন্যান্য খবর

BangaliNews24.com