BangaliNews24.com

বিপদসীমার উপরে তিস্তার পানি, ৩০ হাজার মানুষ পানিবন্দী

বিপদসীমার উপরে তিস্তার পানি, ৩০ হাজার মানুষ পানিবন্দী
জুলাই ০৬
০০:২০ ২০১৮

 

বিশেষ প্রতিনিধি,লালমনিরহাট : ভারী বর্ষণ ও ভারত থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে তিস্তা নদীর পানি বেড়ে বিপদসীমার ১১সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন জেলার ৩০ হাজার মানুষ।

তিস্তা ব্যারেজের বন্যা সতর্কীকরণ কেন্দ্র সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার সকাল ৬টায় দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারেজ দোয়ানী পয়েন্টে পানি প্রবাহ রেকর্ড করা হয় ৫২ দশমিক ৫৮ সেন্টিমিটর। যা ছিল বিপদ সীমার ২ সেন্টিমিটার নিচে। কয়েক ঘন্টা পর পানি বেড়ে বিপদসীমা অতিক্রম করে দুপুরে ৫ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হতে থাকে। পরে বিকেলে তিস্তার পানি বিপদসীমার ১১ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

পানি বৃদ্ধির ফলে জেলার পাঁচটি উপজেলার প্রায় ৩০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। পাটগ্রাম উপজেলার দহগ্রাম, হাতীবান্ধা উপজেলার গড্ডিমারী, সিঙ্গিমারী, সিন্দুনা, পাটিকাপাড়া ও ডাউয়াবাড়ী ইউনিয়ন এবং আদিতমারী উপজেলার মহিষখোঁচা ইউনিয়ন ও সদর উপজেলার রাজপুর, খনিয়াগাছ ইউনিয়নের নদী তীরবর্তী এলাকাসহ ২৫ গ্রামের ৩০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। তাদের মাঝে বিশুদ্ধ পানি ও শুকনো খাবার সংকট দেখা দিলেও এখন পর্যন্ত সরকারিভাবে ত্রাণ বিতরণ করা হয়নি বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

এদিকে তিস্তা গোবর্দ্ধন চর ঘেষা স্প্যার বাঁধের ভাটিতে গত মঙ্গলবার দুপুর থেকে ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। ভাঙ্গনে ১০টি বসত বাড়ি নদী গর্ভে বিলিন হয়ে গেছে। এছাড়া গত এক সপ্তাহে জেলায় শতাধিক ঘর-বাড়ি নদী গর্ভে বিলিন হয়ে গেছে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধগুলো।

আদিতমারী উপজেলার কুটিরপাড় বালুর বাঁধের প্রায় দুই শত মিটার নদী গর্ভে বিলিন হয়েছে। বাঁধটি রক্ষায় কাজ শুরু করেছে লালমনিরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) কর্তৃপক্ষ। জরুরি প্রতিরক্ষা প্রকল্পের আওতায় ১৫ লাখ টাকা ব্যয়ে জিও ব্যাগ ও বাঁশের পাইলিং দিয়ে বাঁধটি রক্ষার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

তিস্তা ঘেষা মহিষখোচা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মোসাদ্দেক আলী জানান, চলতি সপ্তাহে এ ইউনিয়নে মোট ৪৫টি বসত বাড়ি নদী গর্ভে বিলিন হয়ে গেছে।

লালমনিরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, বৃহস্পতিবার তিস্তার পানি বেড়ে বিপদ সীমার ১১ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বাঁধ রক্ষায় জরুরিভিত্তিতে কোথাও প্রয়োজন পড়লে তার জন্য সর্বদা প্রস্তুত রয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।

লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক শফিউল আরিফ জানান, ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধগুলোর মেরামত কাজ চলমান রয়েছে। তিনি আরো জানান, প্রতিনিয়ত ইউএনও, পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে নদীর পাড়ের খোঁজ-খবর নিয়ে সে অনুযায়ী ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করা হচ্ছে।

অন্যান্য খবর

BangaliNews24.com