BangaliNews24.com

কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদের ৬ টি দান বাক্সে টাকা,বৈদেশিক মুদ্রা, স্বর্ণ

কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদের ৬ টি দান বাক্সে টাকা,বৈদেশিক মুদ্রা, স্বর্ণ
জুলাই ০৮
১৩:১৮ ২০১৮

 

ফজলুল হক বাবু,বিশেষ প্রতিনিধি : কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদের দানবাক্স গুলো  আবারও খোলা হয়েছে। আজ দানবাক্স খুলে ৮৮ লাখ ২৯ হাজার ১৭ টাকা পাওয়া গেছে।

 ৭ জুলাই শনিবার সকালে জেলা প্রশাসনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে ৩ মাস ৭ দিনের ব্যবধানে এ দানবাক্স খোলা হয়।

কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসনের ১০জন উচ্চ পদস্থ দায়িত্ব প্রাপ্ত কর্মকর্তা দের উপস্হিতিতে আজ সকালে ৬টি লোহার তৈরী বড় বড় দানবাক্স গুলো খোলা হয়।

সকাল ১০ টা থেকে দিনব্যাপী টাকা গণনার কাজ শুরু করে বিকেল ৫টা পর্যন্ত গণনা শেষে দানের এ টাকার হিসাব পাওয়া যায়।
এছাড়াও দানবাক্স থেকে সোনা, রূপা ও বৈদেশিক মুদ্রাও পাওয়া যায়।

সকাল থেকে এই গননা কাজের তদারকি করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) উপ-সচিব তরফদার মো. আক্তার জামীল, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আলমগীর হুছাইন, সিনিয়র নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আবু তাহের মোহাম্মদ সাঈদসহ প্রশাসনের কর্মকর্তা, মসজিদ পরিচালনা কমিটির সাঃ সম্পাদক সাবেক পৌর মেয়র মাজারুল ইসলাম ভূইয়া কান্চন সহ মসজিদ কমিটির সদস্য ও সার্বক্ষণিক দায়িত্বরত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
পাগলা মসজিদ ইসলামী কমপ্লেক্স এর দ্বায়িত্ব প্রাপ্ত
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আবু তাহের সাঈদ বাঙালিনিউজ কে জানান তিন মাস পরপর মসজিদের দানবাক্সগুলো খোলার ব্যপারে সিদ্ধান্ত হয়। এবার এবার ৩ মাস ৭ দিন পর খোলা হয়েছে। পরে টাকাগুলো গুনে নগদ ৮৮ লাখ ২৯ হাজার ১৭ টাকা পাওয়া যায়।
আর টাকা গুলো গননার কাজে বিভিন্ন ব্যাংকের ৫০ জন কর্মকর্তা, ১ শতাধিক মাদ্রাসার ছাএ সহ ২শতাধিক মানুষ, সকাল ১০টা থেকে টানা বিকেল ৫টা পর্যন্ত বিনাশ্রমে এই গননায় কাজ করে।
পরে টাকাগুলো রূপালী ব্যাংকের সহকারী মহা ব্যবস্হাপক মোঃ আমিনুল ইসলাম এর নিকট ব্যাংকের মসজিদ একাউন্টে জমা রাখা হয়েছে। আর যে স্বর্ণালঙ্কার পাওয়া গেছে তা আগের পাওয়া স্বর্ণালঙ্কারের সঙ্গে যোগ করে সিন্দুকে রেখে দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও দানে পাওয়া গবাদিপশু ছাগল, হাস-মুরগি প্রতি সপ্তাহেই নির্ধারিত দিনে নিলামে বিক্রি করা হয়।

গত ৩১ মার্চ ২০১৮ সর্বশেষ পাগলা মসজিদের দানবাক্স খুলে গণনা শেষ করে ৮৪ লাখ ৯২ হাজার টাকা পাওয়া যায়।

কিশোরগঞ্জ জেলা শহরের পশ্চিম প্রান্তে নরসুন্দা নদীর তীরে আনুমানিক চার একর জায়গায় ‘পাগলা মসজিদ ইসলামী কমপ্লেক্স’ অবস্থিত। প্রায় আড়াইশ বছর আগে মসজিদটি প্রতিষ্ঠিত হয় বলে ইতিহাস সূত্রে জানা যায়। এই মসজিদের প্রতিষ্ঠা নিয়ে অনেক কাহিনী প্রচলিত আছে, যা ভক্ত ও মুসল্লিদের আকর্ষণ করে।

তিনতলা ও তিন গম্বুজবিশিষ্ট পাগলা মসজিদের সুউচ্চ মিনার বহুদূর থেকে নজরে আসে। এ ছাড়া একটি এতিমখানা ও হাফেজি মাদ্রাসা কমপ্লেক্সের অন্তর্ভুক্ত আছে। সম্প্রতি কমপ্লেক্সের জায়গায় একটি কবরস্থান প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।

সাধারণ মানুষের মধ্যে বিশ্বাস রয়েছে, এখানে মানত করলে মনোবাসনা পূর্ণ হয়। আর এ কারণেই মূলত দূর-দূরান্তের মানুষও এখানে মানত করতে আসেন। দানবাক্সে পাওয়া টাকা সাধারণত বিভিন্ন মসজিদে দান-খয়রাত, মাদ্রাসার উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক কাজে ব্যয় করা হয়ে থাকে।

অন্যান্য খবর

BangaliNews24.com