BangaliNews24.com

বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের জন্মদিন আজ

বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের জন্মদিন আজ
অগাস্ট ০৮
২৩:১২ ২০১৮

নিজস্ব প্রতিবেদক: মহীয়সী এক নারীর নাম বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব। তিনি বঙ্গমাতা। আজ এই মহীয়সী নারীর ৮৮তম জন্মদিন। যথাযোগ্য মর্যাদায় দিনটি পালনে আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের পক্ষ থেকে নেয়া হয়েছে নানা কর্মসূচি।

বেগম ফজিলাতুন্নেছার জন্ম ১৯৩০ সালের ৮ আগস্ট। তিনি বঙ্গবন্ধুর গ্রাম গোপালগঞ্জের টুঙ্গীপাড়ার এক মুসলিম সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। ফজিলাতুন্নেছা মাত্র তিন বছর বয়সে বাবা শেখ জহুরুল ইসলাম এবং পাঁচ বছর বয়সে মা হোসনেয়ারা বেগমকে হারান। মাত্র ১৩ বছর বয়সে শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। বঙ্গবন্ধু যতটা না ঘরের মানুষ ছিলেন, তার চেয়ে বেশি ছিলেন সাধারণ মানুষের। সেজন্য বিয়ের পর আর দশজন সাধারণ নারীর মতো স্বামীকে কাছে পাননি। বঙ্গবন্ধু ব্যস্ত থাকতেন রাজনীতি নিয়ে। অন্যদিকে জীবনের বেশিরভাগ সময় জেলে জেলে কাটিয়েছেন। বেগম ফজিলাতুন্নেছার এ নিয়ে কোনো আক্ষেপ ছিল না। কখনো কোনো কথাবার্তায় বিতৃষ্ণা প্রকাশ পায়নি। বরং সবসময় বঙ্গবন্ধুর পাশে ছায়ার মতো ছিলেন। শেখ মুজিবকে কখনো সংসারের ঝামেলায় জড়াতেন না। সংসার, সন্তান সবকিছুই একা সামলাতেন। বঙ্গবন্ধু জেলে থাকার কারণে বহু ঈদ বিসর্জন দিয়েছেন। কিন্তু সন্তানদের কখনো বাবার অভাব বুঝতে দেননি। ছেলেমেয়েদের বোঝাতেন বাবা বাংলার মানুষের স্বাধীনতার জন্য আন্দোলন করছে। বাংলাদেশের সবার জন্য তাকে ভাবতে হয়। মানুষের অধিকার আদায়ের জন্য রাজপথকে বেছে নিয়েছিলেন। তাই আর দশজন বাবার মতো সন্তানরা তাকে কাছে পাবে না। সংসারের হাল শক্ত হাতে ধরেছিলেন বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব। বঙ্গবন্ধুকে তাই পরিবার নিয়ে বেশি ভাবতে হয়নি। সে কারণে পরিবারের স্বাভাবিক বাঁধন ছাড়াই আজীবন রাজনীতি করে গেছেন। বঙ্গবন্ধু তার ‘কারাগারের রোজনামচা’য় সংসার সম্পর্কে লিখেছেন, ‘‘রেণু বলল, ‘(সংসার নিয়ে) চিন্তা তোমার করতে হবে না।’ সত্যিই আমি কোনোদিন চিন্তা বাইরেও করতাম না, সংসারের ধার আমি খুব কমই ধারি।’’ ধানমন্ডির ৩২ নম্বর বাড়িটিও করেছিলেন ফজিলাতুন্নেছা। তিনি হাউস বিল্ডিংয়ের লোন নিয়ে বাড়ি নির্মাণের কাজ শুরু করেন। নিঃসন্দেহে ফজিলাতুন্নেছা মুজিব রাজনীতি সচেতন ছিলেন। কেবল বঙ্গবন্ধুর পাশেই ছিলেন না, দুঃসময়ে দলীয় নেতাকর্মীদের পাশে ছিলেন। দলের কাছে তিনি আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের অর্থ দিয়ে সহযোগিতা করেছেন। দলের জন্য নিজের গহনা বিক্রি করতেও কুণ্ঠিত হননি। এমনকি সংসারের বাজার-হাটের টাকা থেকেও প্রয়োজনে দলীয় নেতাকর্মীদের টাকা দিতেন। ’৭৫-এর অন্যতম ঘাতক মেজর ডালিমকেও তিনি ব্যবসা করতে ১৫ হাজার টাকা দিয়েছিলেন।

ফজিলাতুন্নেছা মুজিব গোপালগঞ্জের মিশন স্কুলের ছাত্রী ছিলেন। এরপর কিছুদিন গৃহশিক্ষকের কাছে পড়াশোনা করেন। বড় কোনো প্রাতিষ্ঠানিক ডিগ্রি অর্জন করেননি। কিন্তু ছিলেন স্বশিক্ষিত। জানতেন কীভাবে চলতে হবে। সন্তানদের আজীবন সাধারণ জীবনযাপনের শিক্ষা দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা মায়ের শিক্ষায় শিক্ষিত এক আবহমান বাঙালি নারীর প্রতিচ্ছবি। প্রধানমন্ত্রী হয়েও শেখ হাসিনা সন্তান জয়ের জন্য খাবার রান্না করছেন, এ দৃশ্যটি ফজিলাতুন্নেছা মুজিবেরই প্রতিচ্ছবি। বঙ্গবন্ধুর প্রিয় লেখক ছিলেন ‘ব্রাটান্ড রাসেল’। তিনি ব্রাটান্ড রাসেলের জীবনদর্শন অনুসরণ করতেন। শুনতে শুনতে ফজিলাতুন্নেছা বঙ্গবন্ধুর প্রিয় লেখক ব্রাটান্ড রাসেলের ভক্ত হয়ে গেলেন। কনিষ্ঠ ছেলের নাম রাখেন ‘রাসেল’! এ থেকেই বোঝা যায় তার একটি জ্ঞান পিপাসু মন ছিল। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও মায়ের মতো জ্ঞান পিপাসু। তিনি বইমেলায় যান, বই পড়েন এবং বই লিখেন। প্রধানমন্ত্রীর লেখা ‘বাংলাদেশের রাজনীতিতে স্বৈরাচারের অভ্যুত্থান’ বইটি তদানীন্তন সময়ে রাজনৈতিক লেখার ভেতরে জনপ্রিয়তা পেয়েছিল।

বঙ্গমাতা বঙ্গবন্ধুর মতো অত্যন্ত সাদামাটা জীবনযাপন করতেন। রাষ্ট্রপতির স্ত্রী হয়েও কোনো চাহিদা ছিল না। তিনি তখনো আর দশজন বাঙালি নারীর মতোই স্বামী-সন্তানদের জন্য নিজের হাতে রান্না করতেন। পোশাক, অলঙ্কার নিয়ে বিলাসিতা দূরের কথা, সাধারণ চাকচিক্যও পছন্দ করতেন না। গায়ে গহনাও পরতেন না। অথচ এটি আজকের বিশে^ কোনো রাষ্ট্রপতির স্ত্রীর বেলায় চিন্তাই করা যায় না। বঙ্গবন্ধু এ দেশের রাষ্ট্রপতি হয়েও বঙ্গভবনে থাকতেন না।

ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে। সহধর্মিণী ফজিলাতুন্নেছা মুজিব কোনো রকম রাষ্ট্রীয় প্রটোকল চাইতেন না। এত বিলাসবর্জিত জীবন আর কোনো রাষ্ট্রপতির স্ত্রী যাপন করেছেন কিনা সন্দেহ। আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে যারা রাজনীতি করতেন, এমনকি যারা বঙ্গবন্ধুর গঠনমূলক সমালোচনা করতেন, তারাও একবাক্যে বঙ্গমাতার সাধারণ জীবনযাপনের কথা স্বীকার করবেন। আজীবন নিভৃতচারী এই নারী বঙ্গবন্ধুর সব সংগ্রামে পাশে থেকেছেন। আজীবন স্বামীর আদর্শকে লালন করে গেছেন। তাই নিয়তিও যেন মৃত্যুক্ষণটি একদিনে একই সময়ে লিখে দিল।

বঙ্গবন্ধু বেগম ফজিলাতুন্নেছাকে ডাকতেন রেণু বলে। আজ এই মহামানবীর জন্মদিন।- সংগৃহীত।

অন্যান্য খবর

BangaliNews24.com