BangaliNews24.com

সাজা দিয়েও চৌহালীতে থামছেনা যমুনায় বালু লুট

সাজা দিয়েও চৌহালীতে থামছেনা যমুনায় বালু লুট
সেপ্টেম্বর ০৯
১৯:৪০ ২০১৮

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি : সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলার সদিয়াচাঁদপুর ইউনিয়নে বালু দস্যুদের যমুনার উপর অত্যাচার থামছেই না। যথাযথ পদক্ষেপ হীনতার কারনে নদীর গতিপথ পরিবর্তন হয়ে পশ্চিম পাড়ে ¯্রােত আঘাত হানায় এনায়েতপুর স্পার বাধ, তাঁত সমৃদ্ধ অঞ্চল, খাজা ইউনুছ আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, বিশ্ববিদ্যালয় এখন হুমকীর মুখে পড়েছে। এছাড়া এনায়েতপুরের বা²নগ্রাম হতে দক্ষিনে জালালপুর জুড়ে ৫ কিলোমিটারে ভাঙ্গন তীব্রতর আকার ধারন করায় সংকিত হয়ে পড়েছে স্থানীয়রা। এদিকে উপজেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমান আদালতে ড্রেজার মালিকদের নামমাত্র অর্থদ্বন্ড দেয়ার পর বালু উত্তোলন আরো প্রসারিত হয়েছে। তাই প্রশাসনের সাথে সখ্যতার অভিযোগ তুলেছে সচেতন মহল।

জানা যায়, চৌহালী উপজেলার সদিয়াচাঁদপুর এবং স্থল ইউনিয়নের যমুনা নদী থেকে অন্তত ১০টি সংঘবদ্ধ চক্র গত প্রায় ২৫/৩০ বছর ধরে অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলন ব্যবসার সাথে জড়িত। উপজেলা প্রশাসনের এক শ্রেনীর অসাধু কর্মচারীদের সাথে যোগসাজোশে বছরে অন্তত অর্ধশতাধিক কোটি টাকার বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। অনেকের এ ব্যবসার সাথে জড়িত থেকে আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হয়েছে। বর্তমানে এই বালু উত্তোলনে নতুন মাত্রা যোগ করেছে বালু দস্যুরা। এলাকার রুহুল আমীনের নেতৃত্বে গত দু মাস আগে আনা হয়েছে সুবিশাল ৩টি ড্রেজার। এই ড্রেজার দিয়ে যমুনার মাঝ নদী সদিয়াচাঁদপুর ইউনিয়নের উড়াপাড়া, মৌহালী, ইজারাপাড়া, সহ আশাপাশের এলাকা জুড়ে দিনভর তোলা হচ্ছে বালু।

প্রতিদিন গড়ে দেড় লক্ষাধীক ঘনফুট বালু তোলা হচ্ছে এখান থেকে। যা বিক্রি হচ্ছে নদীর পশ্চিম পাড়ের এনায়েতপুর থানার দুটি এবং বেলকুচির একটি স্থানে। বিষয়টি নিয়ে এলাকা জুড়ে ব্যাপক নিন্দার ঝড় বইলে গত ১০ আগষ্ট চৌহালী উপজেলা ভারপ্রাপ্ত ইউএনও আনিসুর রহমানের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমান আদালত অভিযান চালায়। তখন সুবিশাল ড্রেজার পরিচালনাকারী ২ ব্যবসায়ীকে ধরে মাত্র ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করে ছেড়ে দেয়া হয়। তখন জব্দ করা হয়নি ড্রেজার সহ আনলোড নৌকা। এরপর কদিন বন্ধ থাকার পর পুরোদমে ৩টি ড্রেজার লাগিয়ে প্রতিদিন গড়ে দেড় লক্ষাধীক ঘন ফুট বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। যা প্রতি ঘনফুট ৫/৬ টাকা দরে বিক্রি করা হচ্ছে। এর সাথে আরো কয়েকজন প্রভাবশালী জড়িত।

বর্তমান নদীর মাঝ খানে অপরিকল্পিত ভাবে বালু উত্তোলন অব্যাহত থাকায় নদীর গতিপথ পরিবর্তন হয়ে পশ্চিম দিকে ধাবিত হচ্ছে। পানি আঘাত হানছে পশ্চিম পাড়ের এনায়েতপুর স্পার বাধ ও দেশের বৃহৎ চিকিৎসা সেবা প্রতিষ্ঠান খাজা ইউনুছ আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল তীরে। যা বর্তমানে হুমকীর মুখে পড়েছে।
এছাড়া একই কারনে প্রচন্ড ¯্রােতে এনায়েতপুরের বা²নগ্রাম, আরকান্দি, জালালপুরে ভাঙ্গন আরো তীব্রতর আকার ধারন করছে। তাই আতংককৃত হয়ে পড়েছে এলাকাবাসী। বা²নগ্রামের আব্দুল মালেক, এলাহী হোসেন, আরকান্দির মোকছেদ আলী, রহমান মিয়া জানান, অব্যাহত নদী ভাঙ্গনে আমরা এখন নিঃস্ব প্রায়। বাকি কিছু জমি আছে সেগুলোও আর রক্ষা পাচ্ছেনা। যমুনা থেকে ড্রেজার দিয়ে বালু কাটায় ¯্রােত বাড়াতেই এই অবস্থা। আমরা চাই দ্রæত ড্রেজার বন্ধ করা হোক।
যমুনা থেকে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলনের সাথে জড়িত রুহুল আমীন জানান, নদীতে গভীরতা বেড়ে যাওয়ায় আপাতত বালু আমরা কাটছিনা।
তবে সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, বালু উত্তোলনের মহাৎসব চলছে।
এদিকে বিষয়টি নিয়ে চৌহালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) আনিসুর রহমানের সাথে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি মিটিংয়ে আছেন বলে জানিয়েছেন।
এ ব্যাপারে সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফুল ইসলাম জানান, বিষয়টি ক্ষতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

অন্যান্য খবর

BangaliNews24.com