BangaliNews24.com

সিরাজগঞ্জে ‘জলাশয় সংস্কারের মাধ্যমে মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধি’ প্রকল্পের ৩ কোটি টাকা হরিলুট,

সিরাজগঞ্জে ‘জলাশয় সংস্কারের মাধ্যমে মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধি’ প্রকল্পের ৩ কোটি টাকা হরিলুট,
জুন ১১
০৮:১২ ২০১৮

সিরাজগঞ্জে ‘জলাশয় সংস্কারের মাধ্যমে মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধি’ প্রকল্পের ৩ কোটি টাকা হরিলুট,
বিশেষপ্রতিনিধি:
“জলাশয় সংস্কারের মাধ্যমে মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধি” শীর্ষক প্রকল্পের চলতি অর্থ বছরে সিরাজগঞ্জের ২৪টি পুকুর পুনঃখননের জন্য বরাদ্দের ৩কোটি টাকা হরিলুটের পাঁয়তারা চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এসব পুকুর পুনঃখননের কাজে কোন নিয়ম-নীতি মানা হচ্ছেনা। স্থানীয় প্রভাবশালী ঠিকাদারগণ সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তাদের যোগসাজসে কাজ করছেন। সচেতন মহল বলছেন, পুকুরগুলোর ১৫থেকে ২০ভাগ কাজ করেই চূড়ান্ত বিল উত্তোলনের পাঁয়তারা করছেন ঠিকাদাররা। সিরাজগঞ্জ জেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা গেছে, এই প্রকল্পের অধীনে চলতি অর্থ বছরে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার কওমী জুটমিলস্(বর্তমান জাতীয় জুট মিলস্) অডিটরিয়াম সংলগ্ন পুকুর পুনঃখননের জন্য বরাদ্দ ধরা হয়েছে ১০লাখ ৩৬হাজার টাকা, কওমী জুটমিল গুদাম পুকুরে ৪লাখ ৬৭হাজার ও কওমী জুটমিলস্ পানির ট্যাংকি পুকুর পুনঃখননের জন্য ৫লাখ ৫৩হাজার বরাদ্দ ধরা হয়েছে। তাড়াশ উপজেলার শীতলাই পুকুর ২৩ লাখ, টাটগাড়ী খাস পুকুর ৮ লাখ, ঘোড়াধাপ পুকুর ২০লাখ, সোনাই পুকুর ৯লাখ ২৩হাজার, জসাইদিঘী পুকুর ১৭লাখ ৫১হাজার, সোনাকানি পুকুর ৯লাখ ৫৪হাজার, দক্ষিণ কাইটা পুকুর ১৯লাখ ২৮হাজার, বাহির পুকুর ১২লাখ ৪৮হাজার, কুমিরা পুকুর ১০লাখ ৪৩হাজার, জিতার পুকুর ২০লাখ, তানঘরিয়া পুকুর ১২লাখ ৪২হাজার, আনঘরিয়া পুকুর ১১লাখ ৫৩হাজার টাকা ও জয়সাগর পুকুর পুনঃখনন কাজে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ১৭ লাখ ৯৭ হাজার টাকা।
উল্লাপাড়া উপজেলার গাবতলা পুকুর ৬লাখ ১৫হাজার, নয়নদহ জলা ২০লাখ, কাকন দাস পুকুর ২০ লাখ ও হাটখোলা পুকুর পুনঃখননের জন্য বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ১৪লাখ ২৩হাজার টাকা। শাহজাদপুর উপজেলার মশিপুর খাস পুকুর ৯লাখ ৬৪হাজার, গাড়াদহ বাজার পুকুর ৯লাখ ৫০হাজার, ভায়া বিশ্বাস পুকুর ৯লাখ ৬৪হাজার ও কাজিপুর উপজেলার পারুলকান্দি মরা নদী পুনঃখননের জন্য বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ৩০লাখ টাকা। সরেজমিনে তাড়াশ উপজেলার শীতলাই পুকুর, জিতার পুকুর, ঘোড়াধাপ পুকুর, জসাই দিঘী পুকুর, দক্ষিণ কাইটা পুকুর ও জয়সাগর পুকুরে গিয়ে দেখা যায়, এসব পকুরের কোথাও কাজের তথ্য সম্বলিত সাইন বোর্ড লাগানো হয়নি।

প্রতিটি পুকুরে একটি করে ছোট আকারের বেকু দিয়ে পুনঃখননের নামে পুকুরের স্লোপ থেকে নামকাওয়াস্তে মাটি কেটে পাড়ে ফেলে তা সমান করে দেয়া হচ্ছে। পাড়ের অনেক স্থানেই কোন নতুন মাটি ফেলা হয়নি। পুকুরগুলোর তলাদেশ খনন না করে সমান করা হচ্ছে। যেখানে গর্ত রয়েছে সেখানে মাটি ফেলে গর্ত সমান করা হচ্ছে। এ ছাড়া, গভীরতার ওপর ভিত্তি করে পুকুরের তলদেশে তিন থেকে পাঁচ ফুট পর্যন্ত খনন করার কথা থাকলেও কোন কোন পুকুরের তলদেশে মাটি ছিটিয়ে বা বেকুর সাহায্যে আঁচড় দিয়ে রাখা হয়েছে। যেন দেখে মনে হয় খনন করা হয়েছে। অনেক পুকুরের ঘাস রয়েই গেছে। ঝিনুক-শামুকও পড়ে আছে। পুকুর পাড় ১০থেকে ১২ফুট চওড়া করার কথা থাকলেও কোন পুকুরেই তা করা হয়নি। কোনটা ৩ থেকে ৪ফুট করা হয়েছে, আবার কোন কোনটায় কিছুই করা হয়নি। অপরদিকে, তাড়াশের বারুহাস ইউনিয়নের ধোপাগাড়ি বাজার এলাকার তানঘরিয়া পুকুর ও আন আনঘরিয়া পুকুরে গিয়ে দেখা যায়, কাজ শেষ না করেই এখান থেকে বেকু তুলে নেয়া হয়েছে। পুকুর পারে নামমাত্র মাটি ফেলা হয়েছে। পুকুরের তলদেশ পূর্বের মতোই পড়ে আছে। আর মাটিতে সবুজ ঘাস ও শ্যাওলা আগের মতোই রয়ে গেছে। এ দু’টি পুকুরে বরাদ্দ প্রায় ২৪ লাখ টাকা। সুফলভোগীদের অভিযোগ, দেশের দরিদ্র ও বেকার জনগোষ্ঠীর আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং দেশের আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়নের লক্ষ্যে “জলাশয় সংস্কারের মাধ্যমে মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধি” প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে মৎস্য ও প্রাণি সম্পদ মন্ত্রণালয়। অথচ, সংশ্লিষ্ট বিভাগের কিছু অসৎ কর্মকর্তার যোগসাজসে স্থানীয় প্রভাবশালী ঠিকাদারগণ অধিকাংশ পুকুরে কোন কাজ না করেই চূড়ান্ত বিল উত্তোলনের পাঁয়তারা করছেন। এতে সরকারের উদ্দেশ্য ভেস্তে যাওয়ার পাশাপাশি নিজেরাও ক্ষতিগ্রস্ত হবেন বলে আশংকা করছেন সুফলভোগী সমিতির সদস্যরা। তারা জানান, প্রতিটি পুকুর পুনঃখননের জন্য যে টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে সে টাকায় নতুন নতুন পুকুর তৈরী করা সম্ভব। অথচ, লুটপাটের জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তাদের যোগসাজসে প্রয়োজনের অতিরিক্ত বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ তাদের কার্যক্রম। বিল করার ক্ষেত্রে ঠিকাদাররা এসব অসহায় মানুষের কাছ থেকে কৌশলে স্বাক্ষর আদায় করে নিচ্ছেন বলে অনেকেরই অভিযোগ।
এব্যাপারে তাড়াশ উপজেলা আওয়ামী মৎস্যজীবী লীগের সভাপতি, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের সিনিয়র সহসভাপতি ও পুকুর পুনঃখনন কাজের ঠিকাদার আরিফুল ইসলাম বলেন, অনেক টাকা খরচ করে প্রকল্পগুলো পাস করা হয়েছে। স্থানীয় অনেক প্রভাবশালী নেতা ও সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তাদের টাকা দিতে হয়। লাভের বেশীর ভাগই এদের পিছনে খরচ হয়ে যায়। সে কারণে বাধ্য হয়ে কিছু অনিয়ম করতে হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মনিরুল ইসলামের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। পরে রাজশাহী বিভাগীয় উপপরিচালক রেজাউল করিমের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, কাজ চলমান রয়েছে। চূড়ান্ত বিলের আগে মেজারমেন্ট করে বিলই দেয়া হবে।

অন্যান্য খবর

BangaliNews24.com