BangaliNews24.com

বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর যুদ্ধাপরাধীর পক্ষে অবস্থান নেয় সুবিধাভোগী সরকারগুলো

বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর যুদ্ধাপরাধীর পক্ষে অবস্থান নেয় সুবিধাভোগী সরকারগুলো
অগাস্ট ১২
২২:২৩ ২০১৮

নিজস্ব প্রতিবেদক: বঙ্গবন্ধুর ডাকে বাংলাদেশ স্বাধীন করতে দেশের স্বাধীনতাকামী মানুষ অবর্ণনীয় দুঃখ, দুর্দশা, কষ্ট ও ক্ষতিকে সাহসের সাথে বরণ করেছিল। ৩০ লাখ মানুষের প্রাণ আর আড়াই লাখ মা-বোনের সম্ভ্রম বিসর্জন সেই অমূল্য ক্ষতি শিকারের অংশ। সেই ক্ষতি করতে পাকিস্তানী হানাদারদের সাথে সক্রিয় ভাবে যুক্ত ছিল কিছু বিশ্বাসঘাতক বাংলাদেশী, যারা পাকিস্তানীদের প্রতি বিশ্বস্ত থেকে তাদের দালাল হিসেবেই শুধু কাজ করেনি যুদ্ধের সময় পৃথিবীর বর্বরতম অপরাধ সংঘটিত করেছে। এই যুদ্ধাপরাধের বিচার করতে সকল উদ্যোগ বঙ্গবন্ধু নিলেও তাঁকে হত্যার পর খুনিদের সরকারগুলো সেসব যুদ্ধাপরাধীর পক্ষে অবস্থান নেয়।

পাকিস্তানের দালালদের বিচারের জন্য করা হয়েছিল আইন। দালাল আইনের অধীনে আদালত গঠন হয়েছিল, শুরু হয়েছিল বিচার। এসব কাজ বঙ্গবন্ধু দেশ স্বাধীনের পর থেকেই শুরু করেন।

শুধু পাকিস্তানী দালালদের নয়, যারা পাকিস্তানী সেনাদের সাথে মিলে বাংলাদেশের মানুষের ওপর গণহত্যা, অবর্ণণীয় নির্যাতন ও ধ্বংসলীলা চালিয়েছিল তাদের বিচারের জন্য ভিন্ন আইন করা হয়েছিল। যা ছিল আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন। সেই আইনে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শুরুর আগেই বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করে বিশ্বাসঘাতকরা।

খুনীদের পক্ষের বেসামরিক ও সামরিক সরকারগুলো পাকিস্তানী দালাল ও একাত্তরের যুদ্ধাপরাধীদের বাঁচাতে উঠে পরে লাগে। বাতিল করে দেয় দালাল আইন। পাকিস্তানী দালালদের বিচার বন্ধ হয়ে গেলে, তারা বেরিয়ে আসে জেল থেকে। এরপর যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের আইন চলে যায় হিমাগারে।

অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলকারী দেশের প্রথম সেনা শাসক জিয়াউর রহমান একাত্তরের খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা হলেও বিস্ময়করভাবে পাকিস্তানের দালাল যুদ্ধাপরাধীদেরকে তার সরকারের নানা গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দেয়। তাদেরকে দেয়া হয় রাজনীতি করার অধিকার।

স্বাধীনতা বিরোধী জামায়াতের ও সাম্প্রদায়িক রাজনীতি নিষিদ্ধের পুরোনো দাবি আজও বাস্তবায়ন হয়নি। তবে গত আট বছরে একাত্তরের যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের বহু কাঙ্খিত ঐতিহাসিক অধ্যায় বাস্তবে রুপ পেয়েছে।

 

অন্যান্য খবর

BangaliNews24.com