BangaliNews24.com

এ চোখ হারানোর দায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এড়াতে পারে না বলে মন্তব্য করেছেন হাইকোর্ট

এ চোখ হারানোর দায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এড়াতে পারে না বলে মন্তব্য করেছেন হাইকোর্ট
জুলাই ১৬
২৩:৩২ ২০১৮

বাঙালিনিউজ২৪ ডেস্ক : চুয়াডাঙ্গা শহরের ইমপ্যাক্ট মাসুদুল হক মেমোরিয়াল কমিউনিটি হেলথ সেন্টারে চিকিৎসা নিতে এসে ২০ জনের চোখ হারানোর দায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এড়াতে পারে না বলে মন্তব্য করেছেন হাইকোর্ট।

বিচারপতি এফআরএম নাজমুল আহসান ও বিচারপতি কেএম কামরুল কাদের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ সোমবার চোখ হারানো ২০ জনকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া রুলের শুনানিতে এ মন্তব্য করেন।

দুপুরে আদালতে চুয়াডাঙ্গায় হেলথ সেন্টারে চোখ হারানোর ঘটনায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দুটি তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করে রাষ্ট্রপক্ষ। এর প্রথমটি গত ১৩ মে এবং দ্বিতীয়টি ১৫ জুলাই চূড়ান্ত করা হয়েছে।

প্রথম প্রতিবেদনে চুয়াডাঙ্গায় চোখ হারানোর জন্য চিকিৎসায় ব্যবহৃত হাসপাতালের ওষুধ ও আনুষঙ্গিক যন্ত্রপাতি থেকে সংক্রামক জীবাণু ছড়িয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। আর দ্বিতীয় প্রতিবেদনে জীবাণুর সংক্রামককে চোখ হারানোর জন্য দায়ী করে এ ঘটনাকে ‘অনিচ্ছাকৃত’ ও ‘দুর্ঘটনাজনিত’ বলা হয়েছে।

গত ২৯ মার্চ দেশের গণমাধ্যম গলোতে ‘চক্ষু শিবিরে গিয়ে চোখ হারালেন ২০ জন!’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। পরে এ ঘটনায় ভুক্তভোগী রোগীদের জন্য এক কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ চেয়ে রিট করা হলে ১ এপ্রিল ২০ জনকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিষয়ে রুল জারি করেন হাইকোর্ট।

আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী অমিত দাশগুপ্ত, সুভাষ চন্দ্র দাস ও মো. শাহিন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এবিএম আবদুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পক্ষে আইনজীবী মো. কামাল হোসেন। ইমপ্যাক্ট মেমোরিয়াল কমিউনিটি হেলথ সেন্টারের পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার এম আমীর-উল ইসলাম।

শুনানিতে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মাহমুদ বাশার বলেন, রিট আবেদনটি মেইনটেনেবল (গ্রহণযোগ্য) নয়। কারণ সংবিধান অনুযায়ী জীবনের অধিকার মৌলিক অধিকার হলেও স্বাস্থ্যসেবার অধিকার মৌলিক অধিকার নয়। স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার যে অধিকার, সেটা রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতিতে আছে। তখন আদালত বলেন, স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার অধিকার জীবনের অধিকারের মধ্যে পড়ে কি-না, আদালত এটা পর্যলোচনা করে দেখবেন।

এ সময় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পক্ষে কামাল হোসেন চোখ হারানোর ঘটনায় মন্ত্রণালয়ের প্রথম প্রতিবেদনটি আদালতে উপস্থাপন করেন। প্রতিবেদনের মূল অংশ উপস্থাপন করে কামাল হোসেন বলেন, হাসাপাতাল কর্তৃপক্ষের অপারেশন প্রক্রিয়া বা প্রাসঙ্গিক যন্ত্রপাতিসহ ব্যবহৃত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে চোখের ছানি অপারেশনের সময় জীবাণুর সংক্রমণ ঘটেছে। এ ছাড়া ইমপ্যাক্ট হেলথ সেন্টার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তাদের ব্যবহৃত কেমিক্যাল ও যন্ত্রপাতি ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের রেজিস্ট্রেশনভুক্ত নয়। ঔষধ প্রশাসনও জানিয়েছে, ব্যবহৃত কেমিক্যাল তাদের প্রশাসনের তালিকাভুক্ত নয়।

এ পর্যায়ে আদালত বলেন, এর দায় তাহলে ঔষধ প্রশাসনেরও আছে। তারা দায় এড়াতে পারে না। কারণ অপারেশন করার ক্ষেত্রে ইমপ্যাক্ট কর্তৃপক্ষকে অনুমতি প্রদান করেছিল মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের অনুমতি নিয়ে এ ধরনের অপারেশনে যদি ত্রুটি হয়, এতে যদি নাগরিকদের ক্ষতি হয়, তাহলে এর দায় মন্ত্রণালয় এড়াতে পারে না। তা ছাড়া যে ওষুধ ব্যবহার করা হয়েছে, সেটি জীবাণুমুক্ত কি-না- সেটিও দেখার দায়িত্ব মন্ত্রণালয়ের ছিল, ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের ছিল।

এ ছাড়া ওই অপারেশনে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি বিষয়ে আদালত বলেন, এগুলো বাংলাদেশে তৈরি হয়েছে, না আমদানি করা হয়েছে; সেটি ঔষধ প্রশাসনের দেখার কথা থাকলেও তারা সেটি দেখেনি। এর দায়ও মন্ত্রণালয় এড়াতে পারে না।

এ সময় ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মাহমুদ বাশার বলেন, এখানে ঔষধ প্রশাসন পক্ষভুক্ত নয়। তাদের কেউ উপস্থিত নেই। তখন আদালত বলেন, ঔষধ প্রশাসনের ব্যর্থতা মন্ত্রণালয়েরও ব্যর্থতা। তারা একই পক্ষ। এর পর দ্বিতীয় প্রতিবেদনটি আদালতে উপস্থাপন করা হয়।

কামাল হোসেন বলেন, এই প্রতিবেদনে চোখ হারানোর ঘটনাকে ‘অনিচ্ছাকৃত ও দুর্ঘটনাজনিত’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এ পর্যায়ে রিটকারী অমিত দাশগুপ্ত আদালতে বলেন, দুটি প্রতিবেদন সাংঘর্ষিক। একটির সঙ্গে অপরটির মিল নেই। পরে আদালত মঙ্গলবার পর্যন্ত শুনানি মুলতবি করেন।

অন্যান্য খবর

BangaliNews24.com