BangaliNews24.com

মোবাইল ফোন ব্যবহারকারীদের ভালো নেটওয়ার্ক ও কম খরচে উন্নত সেবা দিতে আসছে নম্বর না বদলিয়ে অপারেটর পরিবর্তন সেবা বা এমএনপি

মোবাইল ফোন ব্যবহারকারীদের ভালো নেটওয়ার্ক ও কম খরচে উন্নত সেবা দিতে আসছে নম্বর না বদলিয়ে অপারেটর পরিবর্তন সেবা বা এমএনপি
জুন ১৭
১৩:৫২ ২০১৮

বাঙালি নিউজ২৪ ডেস্ক : এমএনপিদেশে দুই ধরনের কলরেট চালু আছে, অননেট ও অফনেট। অননেট (একই মোবাইল নেটওয়ার্ক) ও অফনেট (এক নেটওয়ার্ক থেকে অন্য নেটওয়ার্কে) তুলে দিয়ে সরকার মোবাইল ফোন অপারেটরগুলোর জন্য ‘একটিই কলরেট’ চালু করতে যাচ্ছে। এমএনপি (মোবাইল নম্বর পোর্টেবিলিটি) সেবা চালুর আগেই এক কলরেট চালু হতে পারে।যার সুফল পাবে মোবাইলফোন ব্যবহারকারীরা।
মোবাইল ফোন ব্যবহারকারীদের ভালো নেটওয়ার্ক ও কম খরচে উন্নত সেবা দিতে আসছে নম্বর না বদলিয়ে অপারেটর পরিবর্তন সেবা বা এমএনপি। কিন্তু হালে এতে প্রধান বাঁধা হয়ে দাঁড়িয়েছে অননেট ও অফনেট কলরেট।
যদিও ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বাঙালি নিউজ২৪কে বলেছেন, আমরা এমএনপির দুটো বিষয় নিয়ে কাজ করছি। প্রথমত: আমরা এটা চালুর জন্য ৩১ জুলাই পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছি। দ্বিতীয়ত: অফনেট ও অননেট বিলুপ্ত করে একটা নির্দিষ্ট কলরেট তৈরি করে দেওয়ার জন্য টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসিকে বলে দিয়েছি। বিটিআরসি এরই মধ্যে একটি যৌক্তিক রেট ঠিক করে দেবে।
মন্ত্রী বলেন, নতুন একটি রেট আমাদের তৈরি করতেই হবে। কারণ, যে প্রযুক্তিগত সুবিধার জন্য আমরা এমএনপি চালু করতে চাচ্ছি তা কার্যকর হবে না। মনোপলি (একচেটিয়া প্রতিযোগিতা) থেকেই যাবে। এতে করে বড় প্রতিষ্ঠান আরও বড় হবে অন্যদিকে ছোট ছোট অপারেটররা আরও দুর্বল হয়ে পড়বে।

বিটিআরসির নির্ধারণ করে দেওয়া সর্বনিম্ন অননেট চার্জ প্রতি মিনিট ২৫ পয়সা, অফনেট ৬০ পয়সা। সর্বোচ্চ চার্জ প্রতি মিনিট দুই টাকা। মোবাইল ফোন অপারেটররা এই সীমার মধ্যে থেকে নিজেদের অপারেটরের চার্জ নির্ধারণ করেছে। ফলে একেক অপারেটরের চার্জ একেকরকম। মোবাইল ফোন ব্যবহারকারীরা বিভিন্ন অপারেটরে অননেটে ৩০ থেকে ৩৯ পয়সা এবং অফনেটে ৯১ পয়সা থেকে এক টাকা ৪০ পয়সায় কল করার সুযোগ পাচ্ছে বর্তমানে। এক রেট চালু হলে এই পার্থক্য এবং বৈষম্য থাকবে না।

জানা গেছে,একটি অপারেটরে অননেট কলের সংখ্যা ৯০ শতাংশ। আবার কোনও কোনও অপারেটরে অননেট ও অফনেট কলের সংখ্যা যথাক্রমে ৭০ ও ৩০ শতাংশ।

মোবাইল অপারেটরগুলোর ভাষ্য, অফনেট ও অননেট চালু রেখে এমএনপি সেবায় কলরেট চার্জ বেশি হবে। ক্ষেত্র বিশেষে তা কার্যকর নাও হতে পারে। এমনও হতে পারে মোবাইল ব্যবহারকারীর অজান্তে কল চার্জ বেশি হচ্ছে। মোবাইল ব্যবহারকারীর পক্ষে বোঝা সম্ভব হবে না তিনি অননেটে নাকি অফনেটে রয়েছেন। ধরা যাক, গ্রাহক বাংলালিংক ব্যবহার করেন, এমএনপি সেবা নিয়ে তিনি রবি অপারেটরে যুক্ত হয়েছেন। ওদিকে তিনি ফোন করেছেন টেলিটক নম্বরে। দেখা গেল ওই টেলিটক ব্যবহারকারী এমএনপি সেবার বদৌলতে রবির নেটওয়ার্ক ব্যবহার করছেন। তাহলে তার কলচার্জ কোন অপারেটরে হবে? এটা অনেক বড় সমস্যা ডেকে আনতে পারে। সংশ্লিষ্টরা তাই এই সেবা চালুর আগে এক কলরেট চালুর আহ্বান জানান।

জানতে চাইলে মোবাইল অপারেটর রবির ভাইস প্রেসিডেন্ট (কমিউনিকেশন্স ও করপোরেট রেসপন্সিবিলিটি) ইকরাম কবীর বলেন, নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসি নির্ধারিত অন-নেট ও অফ-নেট ভয়েস কলের সর্বনিম্ন মূল্যের বৈষম্য বাজার প্রতিযোগিতায় বিরূপ প্রভাব ফেলছে এবং বাজারে আধিপত্য বিস্তারে সহায়তা করছে। ফলে প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ছে অন্য অপারেটররা। কাজেই ভয়েস কলের মূল্য নির্ধারণের এই নির্দেশনা অপরিবর্তিত রেখে এমএনপি সেবা চালু করলে তা গ্রাহক পর্যায়ে যেমন কোনও সুফল বয়ে আনবে না তেমনি প্রতিযোগিতা বৃদ্ধিতেও কোনও সহায়ক ভূমিকা রাখবে না, উল্টো এই বাজারে একাধিপত্য আরও প্রকট আকার ধারণ করবে।

তিনি আরও বলেন, বাজারে সুষ্ঠু প্রতিযোগিতার পরিবেশ নিশ্চিত করতে এবং গ্রাহকের ভোগান্তি নিরসনে আমরা এমএনপি সেবা চালুর আগে অন-নেট ও অফ-নেট ভয়েস কলের জন্য একক সর্বনিম্ন মূল্য নির্ধারণ করতে সরকারকে অনুরোধ করছি । তবে একক মূল্য নির্ধারণের ক্ষেত্রে অবশ্যই গ্রাহকদের স্বার্থ ও মোবাইল ফোন শিল্পের সার্বিক স্বার্থ বিবেচনা করার আহ্বান জানান তিনি।

টেলিযোগাযোগ খাত সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, এমএনপি সেবার চালুর সুবিধার্থে শুধু মোবাইল অপারেটর নয়, ইন্টারন্যাশনাল গেটওয়ে (আইজিডব্লিউ) ও ইন্টারকানেকশন একচেঞ্জগুলোকে (আইসিএক্স) কারিগরি সক্ষমতা গড়ে তুলতে হবে। যদিও দুই অপারেটর আইজিডব্লিউ ও আইসিএক্স সক্ষমতা তৈরি করতে আগ্রহী নয়। অপারেটর দুটি চায় মোবাইল ফোন অপারেটররাই এই সক্ষমতা গড়ে তুলুক, তারা কিছু করবে না।

এ প্রসঙ্গে একটি মোবাইল অপারেটরের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা নিজেকে উদ্ধৃত না করে বলেন, আমাদেরই (মোবাইল অপারেটর) যদি সক্ষমতা তৈরি করতে হয় তাহলে আইসিএক্স থাকার দরকারটা কী?

তবে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় মনে করে সক্ষমতা তৈরির কাজ আইজিডাব্লিউ ও আইসিএক্সকেই করতে হবে। এটা সরকারি নির্দেশ,তাদের (অপারেটরগুলোকে) মানতেই হবে।

বাংলালিংকের হেড অব করপোরেট অ্যাফেয়ার্স তাইমুর রহমান মনে করেন, এমএনপি সেবা চালুর আগে অফনেট ও অননেট বাতিল করে একটিমাত্র রেট করা উচিত। তা না হলে অনেক ধরনের সমস্যা তৈরি হবে। সেই সমস্যার মুখোমুখি হতে হবে সব অপারেটরকে।

তিনি বলেন, এমএনপি চালুর আগে ৪৫-৫০ পয়সার মধ্যে একটি রেট নির্দিষ্ট করে দিলে সবার জন্যই ভালো হবে।

প্রসঙ্গত, গত ৩১ মের মধ্যে এই সেবা চালুর কথা ছিল। কিছু কারিগরি সমস্যার কারণে আগামী আগস্টের যে কোনও সময় গ্রাহকরা এই সেবা পাবেন বলে জানা গেছে। যদিও প্রধানমন্ত্রীর তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় আগামী ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে এমএনপি সেবা চালুর তাগিদ দিয়েছেন।

মোবাইল ফোন অপারেটরগুলোর সংগঠন অ্যামটবের মহাসচিব টিআইএম নুরুল কবির বলেছিলেন, ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে এই সেবা চালুর বিষয়ে তাগিদ রয়েছে। কিন্তু আরও কিছুটা সময় হয়তো লাগতে পারে। আশা করা হচ্ছে, আগস্টের যে কোনও সময় এই সেবা চালু হতে পারে। তিনি বলেন, এমএনপির সবকিছু আমরা চূড়ান্তভাবে বুঝে পেয়েছি গত ২১ মার্চ। মূলত এ কারণে সবকিছুর মধ্যে সমন্বয় ঘটাতে সময় লাগছে।

এমএনপি সেবা চালু হলে মোবাইল ফোন ব্যবহারকারীরা পছন্দমাফিক অপারেটর পাল্টে ফেলতে পারবেন। গ্রাহকদের কাছে যে অপারেটরের সেবা পছন্দ হবে তিনি চাইলে বিনা দ্বিধায় সেই সংযোগ নিতে পারবেন। এজন্য নিজের মোবাইল ফোন নম্বর বদলাতে হবে না।

এই সেবা পেতে হলে গ্রাহককে ৩০ টাকা ফি দিয়ে (প্রতিবার) আবেদন করতে হবে। এর সর্বোচ্চ ৭২ ঘণ্টার মধ্যে তা চালু হয়ে যাবে। তবে আগের অপারেটরে ফিরতে হলে নির্দিষ্ট পরিমাণ ফি দিয়ে গ্রাহককে অপেক্ষা করতে হবে ৯০ দিন।

এমএনপি সেবার অনুমোদন পেয়েছে বাংলাদেশ ও স্লোভেনিয়ার যৌথ কনসোর্টিয়াম ইনফোজিলিয়ান বিডি টেলিটেক। গত ৭ নভেম্বর টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসিতে এক অনুষ্ঠানে যৌথ কনসোর্টিয়ামের উদ্যোক্তাদের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে কোম্পানি চূড়ান্তকরণের নোটিফিকেশন পত্র তুলে দেওয়া হয়। লাইসেন্স পাওয়ার পর ছয় মাসের মধ্যে এই সেবা চালুর কথা ছিল ইনফোজিলিয়ান বিডি টেলিটেকের। সেই হিসাবে মে মাস নাগাদ এটি শুরুর তাগিদ দেওয়া হয় প্রতিষ্ঠানটিকে।

অন্যান্য খবর

BangaliNews24.com