BangaliNews24.com

কিছু বুদ্ধিজীবী উচ্চ আদালতের রায় সম্পর্কে না জেনেই কোটা নিয়ে কথা বলেন- প্রধানমন্ত্রী

কিছু বুদ্ধিজীবী উচ্চ আদালতের রায় সম্পর্কে না জেনেই কোটা নিয়ে কথা বলেন- প্রধানমন্ত্রী
জুলাই ১৮
২২:৪১ ২০১৮

বাঙালিনিউজ২৪ ডেস্ক : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সাম্প্রতিক কোটাবিরোধী আন্দোলন কার্যত সরকারি চাকরিতে মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের কোটার বিরুদ্ধে। তিনি বলেছেন, কিছু বুদ্ধিজীবী উচ্চ আদালতের রায় সম্পর্কে না জেনেই কোটা নিয়ে কথা বলেন। কিন্তু শিক্ষকরা কীভাবে এই আন্দোলনে সমর্থন দেন। তারা এ ধরনের ভুল কী করে করেন।

শেখ হাসিনা গতকাল মঙ্গলবার মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানী ভাতা ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে সরাসরি (জিটুপি) তাদের ব্যাংক হিসাবে প্রদান কার্যক্রম উদ্বোধনকালে একথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী তার সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। ২ লাখ ৩০ হাজার ৪৩৮ জন গেজেটেড মুক্তিযোদ্ধার মধ্যে ১ লাখ ৮৬ হাজার ৪০৪ জন সরাসরি তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে এই ভাতা পাবেন। খবর বাসস ও বিডিনিউজের।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তানদের প্রয়োজনীয় সংখ্যায় পাওয়া না গেলে সুপ্রিম কোর্টের একটি নির্দেশনার আলোকে তার সরকার মেধাতালিকা থেকে শূন্য পদ পূরণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

তিনি বলেন, ‘আমরা আদালতের নির্দেশ অমান্য করতে পারি না এবং মুক্তিযোদ্ধাদের কোটা বাতিল করতে পারি না। কাজেই আমরা কেবিনেট সচিবের নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করে দিয়েছি এই বিষয়টি দেখার জন্য।’

শেখ হাসিনা বলেন, স্বাধীনতার পর জাতির পিতা মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য ৩০ শতাংশ কোটা বরাদ্দ করেন। সেইসঙ্গে নারীদের জন্য ১০ শতাংশ এবং প্রতিবন্ধীদের জন্য কোটার ব্যবস্থা করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের পর দেখা গেল সরকারি চাকরির জন্য কোনো মুক্তিযোদ্ধাকে পাওয়া যায় না। ফলে, সরকারি চাকরিতে মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তান এবং নাতি-নাতনিদের অন্তর্ভুক্তির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, যাতে রাষ্ট্র পরিচালনায় মুক্তিযোদ্ধাদের অংশগ্রহণ থাকে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কোটাবিরোধী আন্দোলনের নামে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির বাড়িতে আক্রমণ, তাকে হত্যার চেষ্টা এবং ভাংচুর ও লুটপাট, একেবারে বেডরুমে ঢুকে লুটপাট চলেছে। অরাজক পরিস্থিতি দেখে আমি বলেছিলাম, ঠিক আছে কোটা থাকবে না।’

সরকারপ্রধান বলেন, কোটা থাকবে না কিন্তু এটাও দেখতে হবে যারা স্বাধীনতাবিরোধী, যারা যুদ্ধাপরাধী. তারা যেন রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসতে না পারে, বা রাষ্ট্রীয় কোনো পদ না পায়।

প্রধানমন্ত্রী মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণে তার সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথাও তুলে ধরে বলেন, যাদের মহান আত্মত্যাগে এই স্বাধীনতা, তাদের জন্য আমরা ভাতার ব্যবস্থা করেছি। আমি জানি কাউকে ভাতা দিয়ে সম্মান দেওয়া যায় না। কিন্তু, আমি চাই না তারা কেউ কষ্ট পাক। এ কারণেই, এ উদ্যোগটা আমরা নিয়েছি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, পর্যায়ক্রমে সারাদেশে মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতার টাকা সরাসরি তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পৌঁছে যাবে।

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন এবং মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব অপরূপ চৌধুরী এই প্রকল্প এবং মন্ত্রণালয়ের কর্মকাণ্ডের ওপর একটি প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন। মুখ্য সচিব মো. নজিবুর রহমান অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন।

ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে ভাতা বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন :প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সামাজিক নিরাপত্তা বলয় কর্মসূচির আওতায় সুবিধাভোগীদের ভাতাসমূহ ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে (জিটুপি) বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেছেন। গতকাল সকালে প্রধানমন্ত্রী তার সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।

সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের এই কর্মসূচির আওতায় প্রবীণ, শারীরিক প্রতিবন্ধী, বিধবাসহ প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর প্রায় ৬৭ লাখ ভাতাপ্রাপ্ত মানুষ প্রতি মাসের নির্দিষ্ট সময়ে মোবাইল ফোনে এসএমএস পাওয়ার পর সরাসরি ব্যাংক থেকে তাদের প্রাপ্ত ভাতা তুলতে পারবেন।

শেখ হাসিনা বলেন, সামাজিক নিরাপত্তার আওতায় সরকারি ভাতা দেওয়ার পদ্ধতিতে স্বচ্ছতা সৃষ্টি করা হচ্ছে, যাতে দরিদ্র মানুষের ভাগ্য নিয়ে আর কেউ ছিনিমিনি খেলতে না পারে। তাদের সম্পদ ও টাকা-পয়সা কেউ কেড়ে নিতে না পারে। তিনি বলেন, ‘আগে ভাতার টাকা ব্যাংক ও পোস্ট অফিসের মাধ্যমে যেত। এখন ডিজিটাল বাংলাদেশ। আমরা সেই ডিজিটাল পদ্ধতিতে যার যা প্রাপ্য তার কাছেই তা পৌঁছে দেব। কেউ আর কমিশন খেতে পারবে না। সরাসরি টাকা আপনাদের হাতে পৌঁছে যাবে।’

প্রধানমন্ত্রী আগামী নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, সামনে নির্বাচন, জনগণ যদি ভোট দেয় তাহলে আবার ক্ষমতায় আসব, না হলে আসব না। এটা আল্লাহর ওপরও নির্ভর করে, তিনি যদি চান। তবে মানুষের সেবা করাই আমাদের কাজ, মানুষের পাশে থাকাই আমাদের কাজ।

নরসিংদী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, গোপালগঞ্জের প্রান্তিক এলাকার সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় উপকারভোগীদের সঙ্গে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। ভাতাভোগীরা মধুমতি, এনআরবি, ব্যাংক এশিয়ার মাধ্যমে এই টাকা উত্তোলন করতে পারবেন। সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদ অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন।

অন্যান্য খবর

BangaliNews24.com