BangaliNews24.com

সড়ক পরিবহন বিল-২০১৮ সংসদে পাস

সড়ক পরিবহন বিল-২০১৮ সংসদে পাস
সেপ্টেম্বর ১৯
২৩:৪৮ ২০১৮

নিজস্ব প্রতিবেদক: সড়কে ‘ইচ্ছাকৃতভাবে দুর্ঘটনা ঘটিয়ে’ প্রাণহানি ঘটালে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের বিধান রেখে জাতীয় সংসদে সড়ক পরিবহন বিল-২০১৮ পাস হয়েছে। এতে কোনো ব্যক্তির বেপরোয়া ও অবহেলাজনিত গাড়ি চালানোর কারণে দুর্ঘটনা ঘটলে এবং সেই দুর্ঘটনায় কেউ আহত বা নিহত হলে সর্বোচ্চ পাঁচ বছর কারাদণ্ড বা পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

বুধবার রাতে জাতীয় সংসদে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে চলা অধিবেশনে বিলটি পাসের প্রস্তাব উত্থাপন করেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। বিলে জনমত যাচাই-বাছাই ও কমিটিতে প্রেরণের প্রস্তাব করেন বিরোধী দল জাতীয় পার্টির কাজী ফিরোজ রশিদ, ফখরুল ইমাম, নুরুল ইসলাম মিলন, বেগম নূর-ই-হাসনা লিলি চৌধুরী, বেগম মাহজাবীন মোরশেদ, বেগম রওশন আরা মান্নান ও শামীম হায়দার পাটোয়ারী। কিন্তু তাদের সেই প্রস্তাব কণ্ঠভোটে নাকচ হয়ে যায়। তারা বিলের বিভিন্ন ধারায় সংশোধনী প্রস্তাব দিলেও সেগুলো গৃহীত হয়নি।

জনমত যাচাই-বাছাইয়ের উত্থাপিত প্রস্তাবের জবাব দিতে গিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘আগের মোটর ভেইকেলস অর্ডিন্যান্সে সর্বোচ্চ শাস্তি দুই বছর, সর্বনিম্ন এক মাস। আর সর্বোচ্চ অর্থদণ্ড ৫ হাজার টাকা সর্বনিম্ন অর্থদণ্ড ১০০ টাকা। তবে প্রস্তাবিত আইন সর্বোচ্চ কারাদণ্ডের পরিমাণ পাঁচ বছর এবং সর্বনিম্ন কারাদণ্ড অনধিক একমাস। আর সর্বোচ্চ অর্থদণ্ড অনধিক ৫ লাখ আর সর্বনিম্ন ৫ হাজার টাকা।’

ইচ্ছাকৃত দুর্ঘটনার শাস্তির বিষয়টি পরিষ্কার করে মন্ত্রী বলেন, ‘অনেকে বলেন ডেলিভারেটলি কিলিংয়ের (ইচ্ছাকৃত হত্যাকাণ্ড) ক্ষেত্রে কী শাস্তি হবে? এটা কি পাঁচ বছরেই থাকবে? আমি পরিষ্কার করে দিচ্ছি। কেউ ডেলিভারেটলি কিলিং করলে প্যানাল কোডের ৩০২ ধারা অনুযায়ী সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের বিধান রয়েছে। কাজেই সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড বা ক্যাপিটাল পানিশমেন্ট। তাছাড়া যাবজ্জীবন কারাদণ্ডও আছে। সব কিছু মিলিয়ে শাস্তিটা কম নয়। অপরাধ অনুযায়ীই শাস্তি সেভাবে হবে।’

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘ছাত্র-ছাত্রীরা আন্দোলন করেছে বলে এই বিলটি তড়িঘড়ি করে সংসদে আনা হয়েছে- এটা ঠিক নয়। বিলটি দেড় বছর আগে মন্ত্রিসভায় নীতিগত অনুমোদনের পর সংশ্লিষ্টদের মতামত নেওয়া হয়েছে। ৫৭ পৃষ্ঠার এই বিল এক দিনে আসেনি। অনেক আলাপ-আলোচনার সোনালী ফসল এই বিলটি।’
দীর্ঘ এক বছর ঝুলে থাকার পর আলোচিত এই নতুন সড়ক পরিবহন আইনটি গত ৬ আগস্ট মন্ত্রিসভার বৈঠকে অনুমোদিত হয়। রাজধানীর বিমানবন্দর সড়কে বাসচাপায় দুই শিক্ষার্থী নিহতের ঘটনায় শিক্ষার্থীদের ব্যাপক আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে ওই আইনের খসড়া মন্ত্রিসভায় উত্থাপিত হয়। এরপর ১৩ সেপ্টেম্বর সংসদে বিলটি উত্থাপনের পর অধিকতর পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়। কমিটি বিলটি পাসের সুপারিশ করে গত ১৭ সেপ্টেম্বর সংসদে প্রতিবেদনটি জমা দেয়।

পাস হওয়া বিলে দুর্ঘটনা সংক্রান্ত অপরাধের বিষয়ে বলা হয়েছে, ‘এই আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, মোটরযান চালনাজনিত কোনো দুর্ঘটনায় গুরুতরভাবে কোনো ব্যক্তি আহত হইলে বা তাহার প্রাণহানি ঘটিলে তদসংক্রান্ত অপরাধসমূহ পেনাল কোড ১৮৬০ (অ্যাক্ট নং এক্সএলভি অফ ১৮৬০) এর এতদসংশ্লিষ্ট বিধান অনুযায়ী অপরাধ বলিয়া গণ্য হইবে’।

অন্যান্য খবর

BangaliNews24.com