BangaliNews24.com

রোহিঙ্গা ইস্যুতে কাল বৈঠকে বসছে নিরাপত্তা পরিষদ

রোহিঙ্গা ইস্যুতে কাল বৈঠকে বসছে নিরাপত্তা পরিষদ
জুলাই ২২
২৩:২৪ ২০১৮

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের (ইউএনএসসি) কাছে রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধানের প্রত্যাশার পূরণ চায় বাংলাদেশ।

আগামী সোমবার আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থা ইউএনএসসি বৈঠকে বসছে, যেখানে এই চলমান রোহিঙ্গা সঙ্কট নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

কূটনৈতিক সূত্র মতে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় বারবার তাগিদ দিলেও মিয়ানমার সরকার রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও স্থায়ীভাবে ফিরিয়ে নেয়ার জন্য এখন পর্যন্ত কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেয়নি।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এম শাহরিয়ার আলম সাংবাদিকদের বলেন, ‘জাতিসংঘ মহাসচিব বলেছেন বিশ্ব ব্যর্থ হচ্ছে। আমি আশা করি ইউএনএসসির প্রতিনিধিদের সফরের পর এখন এ পরিস্থিতি সম্পর্কে তাদের আরো ভালো ধারণা তৈরি হয়েছে। আমাদের আশা, ইউএনএসসি এ বিষয়ে আমাদের প্রত্যাশা পূরণ করবে।’

মিয়ানমার সরকার যাতে সংকটের দ্রুত সমাধান খুঁজে বের করে সে জন্য তাদের ওপর অব্যাহত চাপ প্রয়োগের বিষয়ে জোর দেন তিনি।

সম্প্রতি কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শন করতে আসা জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস বলেছেন, রোহিঙ্গারা জাতিগত নিধনের শিকার এবং বিশ্ব তাদের রক্ষায় ব্যর্থ হয়েছে।

একটি কূটনৈতিক সূত্র ইউএনবিকে জানান, সোমবার দিনের দ্বিতীয়ভাগে মিয়ানমার এবং রোহিঙ্গা বিষয়ে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে গুরুত্বের সাথে আলোচনা হবে।

জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনের এক কর্মকর্তা ইউএনবিকে বলেন, ‘নিরাপত্তা পরিষদের ওই আলোচনাটি পরিষদের প্রতিনিধিদের নিয়ে একান্তে (ক্লোজ ডোর) অনুষ্ঠিত হবে।’

তিনি আরো বলেন, পরিষদ প্রধানত গত দুই মাসে মিয়ানমার ও বাংলাদেশ সফর করে যাওয়া জাতিসংঘ মহাসচিবের বিশেষ দূতের কথা শুনবেন। এছাড়াও সেখানে জাতিসংঘের অন্যান্য সংশ্লিষ্ট সংষ্থার প্রতিনিধিরাও মতামত বা তথ্য তুলে ধরবেন।

ওই কর্মকর্তা জানান, নিরাপত্তা পরিষদের ওই একান্ত বৈঠকে বাংলাদেশের অংশগ্রহনের সুযোগ থাকবে না।

তবে পরবর্তী মাসের শেষের দিকে যুক্তরাজ্যের সভাপতিত্বে নিরাপত্তা পরিষেদের একটি উন্মুক্ত বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে বলেও জানান তিনি।

এদিকে, জাতিসংঘ মানবাধিকার বিশেষজ্ঞ সম্প্রতি পাঁচ দিনের সফরে বাংলাদেশ ঘুরে গেছেন। সফরের এই সময়ে মিয়ানমারের রাখাইন থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের সাথে কথা বলেছেন, এতে করে জাতিসংঘ থেকে প্রকাশ হতে যাওয়া নতুন প্রতিবেদনে তাদের তথ্য আরো সঠিকভাবে উঠে আসতে পারে।

জাতিসংঘ মানবাধিকারের এই সফরের পাশাপাশি যারা সম্প্রতি বাংলাদেশে সফরে এসেছেন, তাদের তথ্যের মাধ্যমে মিয়ানমারের ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশন রোহিঙ্গাদের উপর নির্যাতন ও অত্যাচারের ওপর আরো জড়ালো তদন্তের সুযোগ তৈরি হবে।

গত বছরের সেপ্টেম্বরের পর ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশনের পাশাপাশি বিশেষজ্ঞরা গত জুলাইয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বাংলাদেশ সফর করেন।

এ প্রসঙ্গে ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশনের চেয়ারপার্সন মার্জুকি দারুসমান জানান, এই সফর তাদের প্রতিবেদনের জন্য মাঠ পর্যায়ের তদন্তের চুড়ান্ত সফর।

মিয়ানমারের সরকারি বাহিনী দ্বারা নিপীড়ন ও নির্যাতনের শিকার হয়ে গত বছরের আগস্ট থেকে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে সীমান্ত পারি দিয়ে সাত লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশের কক্সবাজারে আশ্রয় নিয়েছে।

ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশন তাদের মাঠ পর্যায়ের তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি করা প্রতিবেদন আগামী সেপ্টেম্বরে জেনেভার মানবাধিকার পরিষদের নিকট জমা দিবে।

এর আগে গত বছরের সেপ্টম্বর, ডিসেম্বর এবং চলতি বছরের মার্চে ৪৭ সদস্য বিশিষ্ট মানবাধিকারের পরিষদে তাদের আপডেট তথ্য মৌখিকভাবে জানিয়েছিলেন।

সম্প্রতি জাতিসংঘ মহাসচিবের সফরের পর মিয়ানমার বিষয়ে জাতিসংঘ মহাসচিবের বিশেষ দূত ক্রিস্টাইন স্ক্রামার বার্জেনার গত ১৪-১৬ জুলাই প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্প সফর করে যান।

সফর শেষে যাওয়ার প্রাক্কালে বার্জেনার সাংবাদিকদের বলেন, এই চলমান সঙ্কটের একটি রাজনৈতিক সমাধান প্রয়োজন। পাশাপাশি মিয়ানমারে অপরাধ সংগঠিতকারীদেরও জবাবদিহিতার আওতায় আনা দরকার বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন প্রসঙ্গে গত বছরের ২৩ নভেম্বর মিয়ানমারের সাথে বাংলাদেশের সমঝোতা স্মারক চুক্তির বাস্তবায়ন দেখতে চায় বাংলাদেশ এবং অন্যান্য অভ্যন্তরিণ ও আন্তর্জাতিক সংস্থা।

এছাড়াও নিরাপদ ও মর্যাদার সাথে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাশন নিশ্চিতে গত ৬ জুন জাতিসংঘের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও মিয়ানমারের সাথে করা চুক্তিরও বাস্তবায়ন চায় তারা।

সূত্র জানায়, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক বজায় রেখে মিয়ানমারের সাথে আলোচনার মাধ্যমে ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের চাপ প্রয়োগের মাধ্যমে এ সমস্যার সমাধান চায় বাংলাদেশ।

অন্যান্য খবর

BangaliNews24.com