BangaliNews24.com

গ্যাস সংকটে আশুগঞ্জ সার কারখানায় ফের উৎপাদন বন্ধ

গ্যাস সংকটে আশুগঞ্জ সার কারখানায় ফের উৎপাদন বন্ধ
জুলাই ২৫
২৩:১৩ ২০১৮

ফজলুল হক বাবু ,বিশেষ প্রতিনিধি : ১৪ মাস বন্ধ থাকার পর চালু হওয়ার এক সপ্তাহ যেতে না যেতেই গ্যাস সংযোগ বন্ধ করে দেয়ায় ফের বন্ধ হয়ে গেছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ সার কারখানার উৎপাদন। বন্ধের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কারখানায় সদ্য যোগদান কারী ব্যবস্থাপনা পরিচালক শফিকুল ইসলাম আকন্দ।ফলে সার সঙ্কট কাটাতে আমদানি নির্ভরতা বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

কারখানা সূত্রে জানা যায়, আশুগঞ্জ সার কারখানাটি পুরো মাত্রায় চালু রাখতে ৪৮ থেকে ৫২ এম এম সিএফ গ্যাস প্রয়োজন হয়। দেশের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো সচল রাখতে গত বছরের ১৯ এপ্রিল আশুগঞ্জ সার কারখানায় গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করে দেয় বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি। তাই চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস না পাওয়ায় কারখানার উৎপাদন বন্ধ রাখতে হয়েছে।

গ্যাস সঙ্কটের কারণে ১৪ মাস কারখানা বন্ধ থাকার ফলে প্রতিদিন ১২০০ টন হিসেবে প্রায় সাড়ে ৬০০ কোটি টাকা মূল্যের পাঁচ লাখ টনেরও বেশি ইউরিয়া সার উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে। এ ছাড়া দীর্ঘ দিন ধরে উৎপাদন বন্ধ থাকা ও কারখানায় সারের মজুদ না থাকায় বিদেশ থেকে আমদানি করা সার দিয়ে কারখানার কমান্ড এরিয়াভুক্ত সাত জেলায় সার সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে হয়েছে।

পরে কারখানার শ্রমিকদের ধারাবাহিক মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচিসহ আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে গত মাসের ১৩ জুন কারখানায় আবার গ্যাস সরবরাহ শুরু করে। কিন্তু দীর্ঘদিন কারখানা বন্ধ থাকার ফলে যন্ত্রপাতি সচল করতে অনেক সময় লাগে। গত ২ জুলাই ভোর থেকে আবার উৎপাদনে ফিরতে সক্ষম হয়েছিল সার কারখানাটি।কিন্তু গ্যাস সংযোগের এক মাস পরই হঠাৎ মৌখিক নির্দেশে আবার গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করে দেয় বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি। ফলে চালু হওয়ার এক সপ্তাহ যেতে না যেতেই আবারো উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়।

বিসিআইসির পরিচালক (কারিগরি) প্রকৌশলী মো: আলী আক্কাস বাঙালিনিউজ২৪কে জানান, দীর্ঘ দিন ধরে উৎপাদন বন্ধ থাকায় কারখানায় সারের মজুদ না থাকলেও বিদেশ থেকে আমদানি করা সার দিয়ে কারখানার কমান্ড এরিয়াভুক্ত সাত জেলায় সার সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা হয়েছে। তিনি জানান, গ্যাসসংযোগ দেয়ার এক মাসের ব্যবধানেই মৌখিক নির্দেশে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এতে সঙ্কট কাটাতে সারের আমদানি নির্ভরতা আরো বাড়বে। এ দিকে বিদেশ থেকে আমদানি করা সারের মান নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন কৃষকসহ সংশ্লিষ্ট অনেকেই। এ ছাড়া আমদানি করা এসব সার দীর্ঘদিন খোলা আকাশের নিচে রাখার কারণে গুণাগুণ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

অন্যান্য খবর

BangaliNews24.com